Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পরকীয়ার পরিণতি! আত্মঘাতী বধূ, স্বামীর নালিশে ধৃত প্রেমিক

পরকীয়ার পরিণতি! আত্মঘাতী বধূ, স্বামীর নালিশে ধৃত প্রেমিক
  • ৩১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পরকীয়ার জেরে আত্মঘাতী হলেন একজন গৃহবধূ। ওই ঘটনায় পুলিস মৃত বধূর প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে। তমলুক থানার সোয়াদিঘি গ্রামের ঘটনা। মৃত বধূর নাম রীনা বিবি(২৫)। তাঁর স্বামী রমজান আলি খানের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিস আসগর আলি নামে প্রতিবেশী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। মৃত বধূর সঙ্গে ধৃত যুবকের অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতেও রীনা বিবি তাঁর সঙ্গে আসগরের সম্পর্ক থাকার কথা বলেছেন। সোয়াদিঘি গ্রামের ওই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তমলুক থানার আইসি সুভাষচন্দ্র ঘোষ বলেন, গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিবেশী যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
Advertisement
গত ১৬ জানুয়ারি পারিবারিক অশান্তির কারণে রীনা বিবি বিষ খান। প্রথমে জানুবসান গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে তাঁকে তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। 
গত ২৮ জানুয়ারি গভীর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। বুধবার তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দেহ ময়না তদন্ত হয়। তাঁর চার বছরের একটি সন্তান আছে। ওই ঘটনার পর গৃহবধূর স্বামী তমলুক থানায় প্রতিবেশী যুবক আসগর আলির বিরুদ্ধে এফআইআর করেন। স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে আসগর ব্ল্যাকমেল করে দফায় দফায় টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ। ওই যুবকের লাগাতার ব্ল্যাকমেলিংয়ের জেরেই স্ত্রী আত্মঘাতী হয়েছে বলে রমজান সাহেবের দাবি।
তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বধূর বয়ান নথিভুক্ত করেছে পুলিস। ওই বয়ানে বধূ জানান, তাঁর সঙ্গে আসগরের সম্পর্ক গড়ে ওঠেছিল। 
এই সম্পর্কের কথা স্বামী জানার পরই পরিবারে অশান্তি তুঙ্গে ওঠে। স্বামী হায়দরাবাদে মার্বেলের কাজ করেন। সম্পর্কের কথা জানাজানি হওয়ার পরই স্বামী বাড়ি ফিরে আসেন। বাড়িতে প্রচণ্ড ঝামেলা হয়। প্রেমিকের ব্ল্যাকমেলিং এবং স্বামীর ধমকের জেরে শেষমেশ ১৬ জানুয়ারি বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ওই বধূ।
তমলুক থানার পুলিস আসগরকে গ্রেপ্তার করেছে। জানা গিয়েছে, আসগরও হায়দরাবাদে রমজান সাহেবের অধীনে মার্বেল মিস্ত্রির কাজ করত। সেই সুবাদে রজমান সাহেবের বাড়িতে আসগরের যাতায়াত ছিল। তারপরই রমজান সাহেবর স্ত্রীর সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রথমে বিষয়টি গোপন থাকলেও পরবর্তীতে এলাকার জানাজানি হয়। আসগরকে বিয়ে করার ভাবনাও ছিল মৃত বধূর। কিন্তু, পারিবারিক অশান্তির জেরে তার আগেই বিষ খেয়ে নেন ওই বধূ। ঩নিহত বধূর স্বামী বলেন, আমি ভিন রাজ্যে কাজ করে স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতাম। 
নানাভাবে ব্ল্যাকমেল করে সেই টাকা হাতিয়ে নিয়েছে আসগর। আমার অধীনে আসগর কাজ করত। আমাদের কাছে ভালো ছেলে সাজার ভান করে আমার স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিল। তারপর ব্ল্যাকমেল করে দফায় দফায় প্রায় দু’লক্ষ টাকা হাতিয়েছে। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পরই বাড়িতে ঝামেলা হয়। আমার স্ত্রীর মৃত্যুর জন্য ওই যুবকই দায়ী। ওর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ