Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পরিকল্পনার অভাবে কর্মতীর্থগুলি পড়েই রয়েছে, জলে গিয়েছে কোটি কোটি টাকা  

পরিকল্পনার অভাবে কর্মতীর্থগুলি পড়েই রয়েছে, জলে গিয়েছে কোটি কোটি টাকা
 
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, সিউড়ি: কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুবরাজপুর ও রাজনগরের কর্মতীর্থ ভবনগুলি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এই ভবনগুলি নির্মাণের পর থেকেই সেখানে গিয়ে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে আগ্রহ দেখাননি স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এক সময় রাজ্য সরকার শহর ও গ্রামাঞ্চলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্থায়ী ঠিকানা তৈরির জন্য এই কর্মতীর্থগুলি নির্মাণ করেছিল। বীরভূমেরও বিভিন্ন জায়গায় তৈরি করা হয়েছিল এই ভবন। কিন্তু এই ভবনগুলি জনবহুল এলাকার বদলে জনশূন্য এলাকায় তৈরি হওয়ায় সেখানে ক্রেতাদের যাতায়াত ছিল না। সেই কারণেই কর্মতীর্থগুলিতে দোকান নিলেও সেখানে ক্রেতার অভাবে ব্যবসায়ীরাও আর দোকান চালাতে আগ্রহ দেখাননি। তাই এখন কর্মতীর্থগুলি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। 
Advertisement
দুবরাজপুরের সাত কেন্দুলি থেকে বিডিও অফিস যাওয়ার বাইপাস রাস্তায় এই কর্মতীর্থটি নির্মাণ করা হয়েছিল। জানা গিয়েছে, এই কর্মতীর্থের ভবনটি রাতের দিকে সমাজবিরোধীদের নেশার আড্ডাখানা তৈরি হয়েছে। ২০১৬ সালে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছিল এই কর্মতীর্থ। আর আইডি এফের ফান্ডে বীরভূম জেলা পরিষদের উদ্যোগে ‘দুবরাজপুর মার্কেটিং হাব’ নামে এই কর্মতীর্থটি নির্মাণ করা হয়েছিল।  সেই প্রতিষ্ঠানের দেওয়ালে এখনও সরকারি ফলকে প্রকল্পের ব্যয়ের পরিমাণ আড়াই কোটি টাকা এবং ২০১৬ সালের জুলাই মাসে প্রকল্প নির্মাণের তারিখ লেখা রয়েছে। 
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই বাইপাস রাস্তাটির যেখানে কর্মতীর্থ নির্মাণ করা হয়েছিল, সেই জায়গাটি কার্যত জনশূন্য এলাকা। সন্ধ্যার পর এই রাস্তা দিয়ে লোক চলাচল কমে যায়। কর্মতীর্থটির অপর প্রান্তে রয়েছে ফাঁকা মাঠ ও আরেকদিকে কিছুটা দূরেই রয়েছে কবরস্থান। সুতরাং এই কর্মতীর্থে দোকানপাট খোলা হলেও সেখানে ক্রেতাদের পৌঁছনোর বিশেষ কোনও সুযোগ নেই। জানা গিয়েছে, এই কর্মতীর্থটি নির্মাণের পর সেখানে দোকান করার জন্য অনেকেই সেই ঘর নিয়েছিলেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই দেখা যায় সেখানে লোকজনের দেখা মিলছে না। ফলে সেখানকার দোকানপাট বন্ধ করে দিয়ে অন্যত্র চলে যাতে বাধ্য হন ব্যবসায়ীরা। তারপর থেকেই অরক্ষিত অবস্থায় ফাঁকা পড়ে রয়েছে এই কর্মতীর্থের নব নির্মিত ভবনটি। এটি বন্ধ থাকার পর কিছুদিন সেটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিরাপত্তা রক্ষী রাখা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু এখন আর কোনও নিরাপত্তা রক্ষী সেখানে দেখা যায় না বলে স্থানীয়দের দাবি। বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মতীর্থের ভবনটি অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকার জন্য সন্ধ্যার পর সেখানে সমাজবিরোধীদের আসর বসে। অনেক যুবক বেআইনিভাবে পাঁচিল টপকে ভেতরে ঢুকে মদ্যপান করে। তাছাড়া কর্মতীর্থের জানালা, দরজাগুলিও চুরি করে নিয়ে যাওয়ারও একাধিকবার চেষ্টা হয়েছে। অথচ এটি নির্মাণের জন্য আড়াই কোটি টাকা খরচের সবটাই জলে গিয়েছে।
এই প্রসঙ্গে দুবরাজপুর পুরসভার চেয়ারম্যান পীযূষ পান্ডে বলেন, শহরের জনবহুল এলাকা থেকে অনেকটা দূরে ফাঁকা জায়গায় কর্মতীর্থটি রয়েছে। সাধারণ মানুষ ফাঁকা জায়গায় যেতে চাইছেন না। তাই ব্যবসায়ীরাও সেখানে যেতে অনীহা দেখিয়েছেন। এখন এই কর্মতীর্থ ভবনটি বিকল্প উপায়ে ব্যবহারের উদ্যোগ নিলে ভালো হবে। 
অন্যদিকে একই অবস্থা রাজনগরের কর্মতীর্থটিরও। জনবহুল এলাকা থেকে অনেকটি দূরে হওয়ায় সেখানেও জমেনি ব্যবসা। তবে সেখানে কর্মতীর্থের সামনেই একটি বাসস্ট্যান্ড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বাসস্ট্যাণ্ডের প্রয়োজনীয় কাজে ভবনটি ব্যবহার করার কথা ছিল। যদিও তাও এখন বিশবাঁও জলে বলে বাসিন্দাদের অভিযোগ।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ