Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে খুন করে আত্মঘাতী স্বামী, শ্বাসরোধ করে হত্যা, ভূপতিনগরে চাঞ্চল্য, তদন্তে পুলিস

পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে খুন করে আত্মঘাতী স্বামী, শ্বাসরোধ করে হত্যা, ভূপতিনগরে চাঞ্চল্য, তদন্তে পুলিস
  • ১০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহের জেরে স্ত্রীকে খুন করে আত্মঘাতী হলেন স্বামী। বৃহস্পতিবার সকালে ভূপতিনগর থানার খালিয়া গ্রামে এনিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। মৃতদের নাম চন্দন প্রধান(৩৭) ও খুকু প্রধান(৩০)। চন্দনের দেহ দড়িতে ঝুলছিল। কিছুটা দূরে মেঝের উপর খুকুর দেহ পড়েছিল। ওই যুবতীর কান থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছিল। গলায় কালো দাগ ছিল। স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুনের পর ওই যুবক গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে পুলিসের প্রাথমিক অনুমান। বন্ধ ঘরের ভিতর থেকে দম্পতির দেহ উদ্ধারের সময় আশপাশের এলাকা থেকে প্রচুর লোকজন জড়ো হন। স্বামী-স্ত্রীর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে পাঠায় পুলিস। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
Advertisement
চন্দনের আদিবাড়ি পটাশপুর থানার আড়গোয়াল পঞ্চায়েত এলাকায়। ১০বছর আগে ভূপতিনগর থানার অর্জুননগর পঞ্চায়েতের খালিয়ার যুবতী খুকুর সঙ্গে বিয়ে হয়। তাঁদের আট বছরের এক ছেলে আছে। খালিয়া গ্রামেই শ্বশুরবাড়ি লাগোয়া পূর্তদপ্তরের জায়গার উপর একটি বাড়ি বানিয়েছিলেন চন্দন। বুধবার ওই দম্পতির ছেলে মামাবাড়িতে ছিল। বাড়িতে সস্ত্রীক চন্দন ছিলেন। রাতে তাঁদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল বলে প্রতিবেশীরা জানান। ওই রাতে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুন করার পর চন্দন গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হন। ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। তার ভিতরে দম্পতির দেহ ছিল।
বৃহস্পতিবার সকালে ছেলেকে তার মামাবাড়ি থেকে আনার কথা ছিল খুকুর। কিন্তু, সকাল হলেও ওই গৃহবধূ বাপেরবাড়িতে যাননি। এরপর তাঁদের আট বছরের ছেলে নিজেই বাড়িতে ফিরে আসে। ভিতর থেকে দরজা বন্ধ থাকায় সে বারবার বাবা-মাকে ডাকে। কিন্তু, কোনও সাড়া না পেয়ে জানালার পাল্লা ঠেলে ঘরের ভিতর তাকাতেই চমকে যায়। বাবা-মায়ের দেহ দেখতে পায় ওই বালক। এরপরই সোজা মামার বাড়িতে গিয়ে দাদু সুধীর জানাকে ওই ঘটনার কথা জানায়। সুধীরবাবু আরও লোকজনকে ডাকাডাকি করে মেয়ের বাড়িতে এসে জানালা দিয়ে দু’জনের দেহ দেখতে পান। 
ওই ঘটনা জানাজানি হতেই গ্রামবাসীরা জড়ো হন। তাঁরা জানালার পাল্লা খুলে ভিতরে ঢুকে পড়েন। এরপর ভূপতিনগর থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিস এসে দম্পতির দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। স্থানীয়রা বলেন, চন্দন স্ত্রীকে সন্দেহ করতেন। তিনি কখনও গ্রামে চাষের কাজকর্ম করতেন। আবার মাঝেমধ্যে ভিনরাজ্যে যেতেন। এক ছেলেকে নিয়ে তাদের সংসার বেশ ভালোই ছিল। কিন্তু, স্ত্রীর প্রতি সন্দেহ থেকেই দু’জনের মধ্যে ঝামেলা হতো। সেই ঝামেলা থেকে এরকম ঘটনা ঘটে যাবে ভাব঩তেও পারছেন না এলাকার বাসিন্দারা।
খালিয়া গ্রামের বাসিন্দা বিমল পড়্যা বলেন, স্ত্রীর প্রতি সন্দেহ থেকেই এরকম একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেল। ওই যুবক বিয়ের পর এখানে পূর্তদপ্তরের জায়গায় বাড়ি বানিয়ে বসবাস করতেন। এলাকার লোকজনের সঙ্গে সম্পর্ক বেশ ভালো ছিল। কিন্তু, পরকীয়া নিয়ে সন্দেহের জেরে এরকম একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে যাবে আমরা ভাবিনি। ভূপতিনগর থানার ওসি শেখ মহম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, দু’জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ