নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাত হলেই শহরে বাইক রেস। ফ্লাইওভার হোক, কিংবা ইএম বাইপাস— রাস্তা কিছুটা ফাঁকা পেলেই বাইক নিয়ে চলে গতির খেলা। তার জেরে একাধিক দুর্ঘটনার খবর মেলে প্রায়ই। কিন্তু, আদতে কলকাতায় দুর্ঘটনার জন্য দায়ী মূলত বেপরোয়া গাড়ি। দুর্ঘটনায় যুক্ত যানবাহনের নিরিখে ফের শীর্ষে উঠে এল চারচাকার ব্যক্তিগত গাড়ি। লালবাজারের সর্বশেষ রিপোর্ট বলছে, গত এক বছরে শহরে দুর্ঘটনায় মোট হতাহতের সংখ্যা ১ হাজার ৯৩৮ জন। যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বাধিক। এর মধ্যে ব্যক্তিগত গাড়ির ধাক্কায় হতাহত হয়েছেন ৪৮৬ জন। অর্থাৎ, ২৫ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য ‘দায়ী’ চারচাকার ব্যক্তিগত গাড়ি। গতবারের তুলনায় যা ৬ শতাংশ বেশি।
সরকারে এসেই বাইক-স্কুটারচালকদের হেলমেট পরা নিয়ে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করতে শুরু করে নবান্ন। সেই নির্দেশ মেনে শহরজুড়ে দুর্ঘটনা রুখতে নাকা চেকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। তাতে হেলমেট পরে বাইক-স্কুটার চালানোর প্রবণতা অনেকটাই বেড়েছে। কিন্তু, জয়রাইড কমেনি। পুজোর পর গড়িয়াহাট ফ্লাইওভারে রাতের বেলায় বিনা হেলমেটে জয়রাইডে বেরিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তিন আরোহী। কলকাতা পুলিশের তথ্য বলছে, শেষ প্রকাশিত বার্ষিক বুলেটিন অনুযায়ী, হতাহতের ঘটনায় ২৩ শতাংশ ক্ষেত্রে ‘ঘাতক’ হল বাইক-স্কুটার। গত বছর এই পরিসংখ্যান একই ছিল। গত বছরও দুর্ঘটনায় মোট হতাহতের মধ্যে ২৩ শতাংশ ক্ষেত্রে দায়ী ছিল দ্বিচক্র যান। কিন্তু, সেবার দুর্ঘটনায় যাঁরা হতাহত হয়েছিলেন, তার মধ্যে ১৯ শতাংশ ক্ষেত্রেই দায়ী ছিল চারচাকার ব্যক্তিগত গাড়ি। এবার তা এক লাফে ২৫ শতাংশ উঠে এসেছে। এই পরিসংখ্যান ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের ঘুম উড়িয়েছে। শহরের রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ির দৌরাত্ম্য কমাতে পুজোর পরও রাতভর নাকা চেকিং জারি রাখার নির্দেশ দিয়েছে লালবাজার। ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, পুজো থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কেস হয়েছে। বাইকের পাশাপাশি নজর দেওয়া হচ্ছে ব্যক্তিগত গাড়িতেও। ইএম বাইপাস, মা ফ্লাইওভার, রেড রোড, ডায়মন্ডহারবার রোড সহ শহরের দুর্ঘটনাপ্রবণ রাস্তাগুলিতে বিশেষ ক্যামেরা ইনস্টল করা হয়েছে। বিপজ্জনক গতি তুললেই সেই ক্যামেরা মারফত জরিমানার চালান চলে যাচ্ছে গাড়ি মালিকের কাছে। লালবাজারের পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরে বিপজ্জনকভাবে গাড়ি ও বাইক চালানোর অভিযোগে মোট ৫৫ হাজারর ৮৮৮টি মামলা রুজু করা হয়েছে। তার মধ্যে বেশ কিছু গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। সেগুলিকে বাজেয়াপ্ত করেছে স্থানীয় থানা।



