Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বেসরকারি ব্যাঙ্কে গ্রাহকদের ৪৯ লক্ষ টাকা তছরুপ, অভিযুক্ত কর্মী

ওটিপি সহ ব্যাঙ্ক অ্যকাউন্টের যাবতীয় তথ্য হাতিয়ে সাইবার প্রতারণার ঘটনা হামেশাই ঘটে। প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে প্রায় দিনই সর্বস্বান্ত হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ।

বেসরকারি ব্যাঙ্কে গ্রাহকদের ৪৯ লক্ষ টাকা তছরুপ, অভিযুক্ত কর্মী
  • ১৩ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ওটিপি সহ ব্যাঙ্ক অ্যকাউন্টের যাবতীয় তথ্য হাতিয়ে সাইবার প্রতারণার ঘটনা হামেশাই ঘটে। প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে প্রায় দিনই সর্বস্বান্ত হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। কিন্তু গ্রাহকরা নিশ্চিন্তে যে ব্যাঙ্কে টাকা গচ্ছিত রেখেছিলেন, কোনওরকম ওটিপি বা পিন ছাড়াই সেই টাকা উধাও! দু’-পাঁচশো টাকা নয়! প্রায় ৪৯ লক্ষ টাকা! গ্রাহকদের এই বিপুল পরিমাণ টাকা তছরুপে যিনি অভিযুক্ত, তিনি ওই ব্যাঙ্কেরই রিলেশনশিপ ম্যানেজার! বাগুইআটির একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের এই ঘটনায় তুমুল শোরগোল পড়েছে। গ্রাহকদের গচ্ছিত টাকার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষই এ ব্যাপারে বাগুইআটি থানায় তাদের কর্মীর বিরুদ্ধেএফআইআর করেছে। দিন দিন বাড়ছে সাইবার প্রতারণা। প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে ব্যাঙ্কে গচ্ছিত জীবনের শেষ সঞ্চয়টুকুও খোয়াতে হচ্ছে গ্রাহকদের। কীভাবে টাকা সুরক্ষিত রাখবেন, তা ভেবে পাচ্ছেন না অনেকে। এই অবস্থায় ব্যাঙ্কের কর্মী নিজেই যদি তছরুপে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে গ্রাহকরা কোথায় যাবেন! তাই এই কাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন গ্রাহকরা। পুলিস সূত্রে খবর, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষই তাদের অভ্যন্তরীণ তদন্তে আর্থিক তছরুপের প্রমাণ পেয়েছে। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যাঙ্ককর্মী তিনজন গ্রাহকের মোট ৪৯ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এর মধ্যে দু’জন প্রবীণ গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৯ লক্ষ ৫৯ হাজার টাকা এবং অন্য এক গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে ২৯ লক্ষ ৪১ হাজার টাকা সরানো হয়েছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারার পর ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে। তাতে উঠে আসে, অভিযুক্ত ব্যাঙ্ককর্মী প্রথমে দু’জন প্রবীণ গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেন। তারপর ১১ বার অনলাইন লেনদেনের মাধ্যমে আরও প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। ওই ১৩ লক্ষ টাকায় তিনি একাধিক ক্রেডিট কার্ড পেমেন্ট করেছেন, ওয়ালেট অ্যাকাউন্টে নিয়েছেন এবং একাধিক পরিচিত ও আত্মীয়ের বিমার টাকা মিটিয়েছেন। অন্য এক গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে হাতানো ২৯ লক্ষ ৪১ হাজার টাকাও একাধিক পরিচিত, আত্মীয়কে ‘পেমেন্ট’ করেছেন। ব্যাঙ্কের অভিযোগ, গ্রাহকদের অজান্তেই অভিযুক্ত কর্মী ব্যক্তিস্বার্থে এই আর্থিক তছরুপ করেছেন। মূলত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এই কারবার চালিয়েছেন তিনি। পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষই ইতিমধ্যে প্রতিটি লেনদেনের নথিপত্র বার করেছে। এমনকী, ওই কর্মী যার যার বিমার টাকা মিটিয়েছেন, সেই বিমা গ্রাহকদের নামের তালিকাও পুলিসকে দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ