নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রেড রোডে যোগ দিবসে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং। তাই দিনটিকে সাফল্যমণ্ডিত করতে উঠেপড়ে লেগেছে রাজ্য প্রশাসন। গুরুদায়িত্ব পড়েছে কলকাতা পুরসভার উপরে। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শহরে অন্তত দেড় লক্ষ মানুষকে যোগ অনুশীলনে শামিল করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির হয়েছে। কিন্তু এই বিপুল সংখ্যক নাগরিক শামিল করা নিয়ে চিন্তায় পুরকর্তারা।
পুরসভা সূত্রের খবর, ওইদিন শহরের বিভিন্ন পার্কে যোগা আয়োজনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতিটি বরোতে তিন থেকে চারটি করে পার্ক চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে প্রশস্ত জায়গা রয়েছে। মাটিতে ম্যাট পেতে যোগা অনুশীলনের সুযোগ থাকছে। এমন ৫০টির বেশি পার্ক বা পুর উদ্যানে যোগার আয়োজন করা হবে। ওইসঙ্গে ওইদিন যাতে বহু নাগরিক রেড রোড থেকে শুরু করে অন্যত্র যোগায় অংশ নেন, তার জন্য বিশেষ প্রচার শুরু করেছে পুরসভা। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, প্রাতর্ভ্রমণকারী সংগঠন এবং বিভিন্ন ক্লাবকে বার্তা পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পুরসভার কর্মীদেরকেও বিভিন্ন কাজে লাগানো হবে। ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছে পুরসভার সচিবালয়। ওইসঙ্গে মোহরকুঞ্জ, রবীন্দ্রসরোবরেও যোগার আয়োজন করা হচ্ছে।
তবে, সবদিক থেকে চেষ্টা করা হলেও দেড় লক্ষ নারী-পুরুষকে শহরের বুকে একসঙ্গে যোগ অভ্যাস করানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে রীতিমতো চিন্তায় পুর প্রশাসন। এই প্রসঙ্গে আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, পুরসভার কর্মচারীদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারবর্গকেও যোগায় অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। পুরসভায় স্থায়ী অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ২৭ হাজার কর্মচারী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ২৫ হাজার কর্মচারীকে যদি যোগা অভ্যাস করানো যায়, তাহলে অনেকটাই জমায়েত করানো যাবে।
এই প্রসঙ্গে এক পুরকর্তা বলেন, আমরা বিভিন্ন দিক থেকে চেষ্টা চালাচ্ছি। বিভিন্ন সংস্থা, সংগঠন এবং ক্লাবকে বার্তা পাঠানো হয়েছে। পুরসভা আয়োজিত বিভিন্ন জায়গায় এসে যোগা অনুশীলন করতে আম জনতাকেও আহ্বান জানানো হচ্ছে। কিন্তু এতসবের পরেও দেড় লক্ষ মানুষকে শামিল করার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা যাবে কি? এই প্রশ্নেই ঘুম উড়েছে পুরকর্তাদের।
এর পাশাপাশি রাজ্য প্রশাসন, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সেনাবাহিনীর তরফেও শহরের বুকে যোগা অভ্যাসের আয়োজন করা হচ্ছে। যোগা অভ্যাসের আয়োজন করা হচ্ছে মিলেনিয়াম পার্ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে। যোগা দিবসে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে কলকাতা যাতে নতুন রেকর্ড ‘উপহার’ দিতে পারে, তার জন্যই উঠেপড়ে লেগেছে শহর প্রশাসন।