


দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: বাংলার উন্নয়নই এখন কেন্দ্রের অগ্রাধিকার। শিল্পায়ন থেকে চাকরি—রাজ্যে সবক’টি ক্ষেত্রই এই মুহূর্তে মোদি সরকারের পাখির চোখ। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে এই আশ্বাস দিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত ৯ মে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের পর বৃহস্পতিবার রাতেই প্রথম দিল্লি সফরে এসেছেন তিনি। শুক্রবার বিকেলে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে।
শুভেন্দু জানিয়েছেন, ‘সাক্ষাৎ পর্বে প্রধানমন্ত্রী সবকা সাথ সবকা বিকাশের কথা বলেছেন।’ সেইসঙ্গে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘কেন্দ্রের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে বঙ্গ উন্নয়নই। দীর্ঘদিন ধরে রুদ্ধ হয়ে রয়েছে বাংলার অগ্রগতি। তা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য যেভাবে সমস্ত সহযোগিতা, পরামর্শ এবং কেন্দ্রীয় সাহায্যের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, তাতে আমি কৃতজ্ঞ। রাজ্যের আর্থিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং যুবদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রকে ফাস্ট ট্র্যাকে বসানোর আশ্বাস মিলেছে। ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে সম্পূর্ণ নতুন যুগ শুরু হতে চলেছে।’ তবে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পর যে কোনো বিজেপি শাসিত রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানই ‘প্রথা’ মেনে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী সহ কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেইমতো শুক্রবার শুভেন্দু অধিকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণানের সঙ্গে দেখা করেছেন। বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মুখ্যমন্ত্রী দেখা করেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের সঙ্গেও।
শুক্রবার দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ট্রাস্ট আস। আমাদের কিছুটা সময় দিন। বাংলায় সব কাজ হবে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম পালটে কর্মসূচি চালালে কীভাবে টাকা মিলবে? অধিকাংশ কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বকেয়া টাকা মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। জল জীবন মিশনে প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকা আর্থিক সহযোগিতা মিলবে। বাংলায় নমামি গঙ্গের সম্পূর্ণ প্রকল্প হবে। শনিবার ভার্চুয়াল বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী আয়ুষ্মান মন্দিরের উদ্বোধন করবেন। রাজ্যে মহল্লা ক্লিনিকের মতো স্বাস্থ্যকেন্দ্র হবে। এনএইচএআই নিয়ে চিকেনস নেক সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে পিডব্লুডির সঙ্গে।’ এরই পাশাপাশি শুভেন্দু বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারীদের জেলে রেখে দেশের করদাতাদের অর্থ নষ্ট করবে না সরকার। চিহ্নিত হওয়ার পর তাদের সোজা ফেরত পাঠানো হবে।’ এদিন রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তুলেছেন বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে। শুক্রবার দিল্লিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অতিথিশালা বঙ্গভবনে রেসিডেন্ট কমিশনার দুষ্যন্ত নারিয়ালার সঙ্গে একপ্রস্থ বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, বাংলার ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে আরও বেশি করে দিল্লি তথা প্রবাসে তুলে ধরার পরামর্শ দিয়েছেন শুভেন্দু। বঙ্গভবনে এদিন মুখ্যমন্ত্রীর জন্য সম্পূর্ণ বাঙালি খাবারের বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। ছিল মাছ-ভাতও!