


নয়াদিল্লি: ২২ এপ্রিল দুপুরবেলায় নিশ্চিন্তে গাছের গোড়ায় বসে মধ্যাহ্নভোজন। তারপর বৈসরণের ভিতরের গতিবিধি ভালো করে ছকে নিয়ে আচমকা হামলা চালায় জঙ্গিরা। গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেয় ২৬ জনকে। পহেলগাঁও হামলা সংক্রান্ত একটি চার্জশিট ফাইল করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। সেইসূত্রেই সামনে এল এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
এনআইএ-র চার্জশিটে লস্কর-ই-তোইবার শাখা সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের পাশাপাশি পাকিস্তান যোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সাজিদ জাঠ, ফয়জস জাঠ ওরফে সুলেমান, হাবিব তাহির ওরফে জিবরান ভাই ও হামজা আফগানি সহ বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ২১ এপ্রিল বৈসরণে পারভেজ আহমেদ নামে এক স্থানীয় বাসিন্দার কুঁড়েঘরের সামনে এসে দাঁড়ায় তিন জঙ্গি। কিছুক্ষণ কথাবার্তা হওয়ার পর তাদের ঘরে নিয়ে যায় পারভেজ। ঘরে ঢুকে প্রথমেই অস্ত্রগুলি লুকিয়ে রাখে জঙ্গিরা। তারপর খাবার চায়। খেতে খেতে অমরনাথ যাত্রার খোঁজ নেওয়া শুরু করে তারা। ওই কুঁড়ে ঘরে প্রায় ঘণ্টা পাঁচেক কাটিয়ে রাত দশটার দিকে বেরিয়ে যায় তিন জঙ্গি। তবে তার আগে পারভেজের স্ত্রী তাহিরাকে দিয়ে কয়েকটি রুটি বানিয়ে নেয়। ঘর থেকে বেরনোর সময় তাদের সঙ্গে ছিল কিছু খাবার, কম্বল, ত্রিপল আর সামান্য বাসনপত্র। আহমেদকে ৩ হাজার টাকাও দিয়ে যায় জঙ্গিরা।
প্ল্যান অনুযায়ী, পরের দিন ২২ এপ্রিল সকালে বৈসরণে পৌঁছয় হামলাকারীরা। পাঁচিলের বাইরে বসেছিল তিন জঙ্গি। বেলা বাড়তেই একটা গাছের গোড়ায় বসে মধ্যাহ্নভোজ সেরে নেয়। এরপর ব্যাগ থেকে কম্বল বের করে গায়ে জড়িয়ে নেয়। এদের মধ্যে দু’জন একটু আড়ালে গিয়ে বৈসরণের ভিতরের গতিবিধি লক্ষ্য করতে থাকে। তখন দুপুর ২টো বেজে ২৩ মিনিট। আচমকাই হামলা শুরু করে। গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে একের পর এক নিষ্পাপ প্রাণ।