পাপ্পা গুহ, উলুবেড়িয়া: ভারতবর্ষের একজন প্রধানমন্ত্রী আছেন। তাঁর নাম নরেন্দ্র মোদি, বয়স ৭৫ বছর। উলুবেড়িয়ার শ্যামপুরেও একজন প্রধানমন্ত্রী আছেন। তাঁর বয়স ৯ বছর। নাম, সায়ন্তিকা। তিনি চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। সায়ন্তিকারও একটি মন্ত্রিসভা আছে। সেটির সদস্য সংখ্যা ৬। শিক্ষামন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ক্রীড়া, পরিবেশ ও সংস্কৃতি মন্ত্রী আছে সেই ক্যাবিনেটে। মন্ত্রীরা বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কাজের দেখভাল করবে। প্রয়োজনে শিক্ষকদের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসবে। সম্প্রতি শিশু সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কারণে শ্যামপুর উত্তর চক্রের নাকোলে কুপনন্দন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছিল টানটান উত্তেজনা। তবে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ ওঠেনি। এবং একটি ভোটও ‘নোটা’য় পড়েনি।
ভোটের দিনের সকাল। ১৬১ ভোটার ফিটফাট হয়ে হাজির স্কুলে। তাদের নাম ধরে ধরে তৈরি করা হয়েছিল ভোটার তালিকা। তা দেখে একে একে ভোটকেন্দ্রে ঢোকানো হয়েছে খুদে ভোটারদের। ভোটকেন্দ্র নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মোড়া। সেখানে ছাত্রছাত্রীরা ভোট দেয় অত্যন্ত গোপনে। ভোট প্রদানের আগে তাদের আঙুলে কালি লাগিয়ে দিয়েছেন প্রিসাইডিং অফিসার। সে কালি দেখে খুদেরা ব্যাপক উত্তেজিত। আগে মা-বাবাকে দেখত হাতে কালি লাগিয়ে ভোট দিয়ে ফিরতে। আজ নিজের হাতেও কালি। বড়ো হয়ে গিয়েছে ভেবে তাদের হাবভাব এদিন বেশ গম্ভীর। খুব একটা দুষ্টুমি করতে দেখা যায়নি।
নির্বাচনে অংশ নিয়ে বেরিয়ে তারা জানিয়েছে, শিশু সংসদ ছাত্রছাত্রীদের খেয়াল রাখবে। তাদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরবে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে। স্কুলে উপস্থিতির হার কেমন, তা নিয়মিত খেয়াল রাখবে তারা। এবং সেই অনুযায়ী শিক্ষকদের সঙ্গে বলে আলাপ আলোচনা চালাবেন মন্ত্রীরা। হতে পরে তারা ক্লাস ওয়ান বা ক্লাস ফোরের পড়ুয়া। কিন্তু কোনও বিচ্যুতি মোটেও ঘটতে দেবে না। মিড ডে মিল নিয়ে কোনও ইচ্ছা বা না ভালোলাগা থাকলে স্পষ্ট জানাবে প্রধানশিক্ষককে। ফুটবলটা পুরনো হয়েছে বা ব্যাটের কানা গিয়েছে ভেঙে, তুলে ধরবে শিক্ষকের কাছে। কোন ক্লাসের কে ভালো গান গায় বা আবৃত্তি করে বা নাটক, তা জানাবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সময়। এইসব বিষয় নিয়েই চুলচেরা বিশ্লেষণ চলেছে দিনভর। এছাড়া নির্বাচনে জিতে এসে প্রধানমন্ত্রী ফটো সেশন করবেন কি না তা নিয়েও ছিল আগ্রহ। নির্বাচন চলাকালীন বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সৈকত মণ্ডল বলেন, ‘কিভাবে নির্বাচন হয় তা পড়ুয়াদের হাতেকলমে শিক্ষা দিতেই এই আয়োজন। সব ক্লাসের ছেলেমেয়েরা ভোটে অংশ নিয়েছে। বাচ্চারা তাদের পছন্দমতো প্রার্থীদের ভোট দিয়ে আনন্দিত। ওদের এসব নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখলাম।’
ভোটদান শেষে টানটান উত্তেজনার মধ্যে হয়েছে গণনা। বিকেলের পর হয় ফলপ্রকাশ। রেজাল্ট আউটের পর দেখা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন সায়ন্তিকা। তিনি চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী, বয়স ৯ বছর। শিক্ষামন্ত্রী সাহিন চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র, বয়স ৯। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন অর্ণা, তিনি তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী, বয়স ৮ বছর। খাদ্যমন্ত্রী খালিদ তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র, বয়স ৮। ক্রীড়ামন্ত্রী হয়েছেন আল হাফিজ। তিনি চতুর্থ শ্রেণিতে পড়েন, বয়স ৯ বছর।