সংবাদদাতা, রামপুরহাট: প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের ১০০শতাংশ উপস্থিতি সুনিশ্চিত করতে এবং ড্রপআউট রোধে অভিনব পদক্ষেপ করল রামপুরহাট মহকুমা প্রশাসন। যে সমস্ত খুদে পড়ুয়ারা অনেকদিন ধরে স্কুলে যাচ্ছে না, বা ড্রপআউট হয়েছে-তাঁদের চিহ্নিত করে বাড়িতে যাবেন প্রশাসনের প্রতিনিধি ও শিক্ষকরা। আগামী ১আগস্ট থেকে রামপুরহাট-১ ব্লকের খরুন পঞ্চায়েতের ১৩টি প্রাথমিক স্কুলে এই বিশেষ অভিযান শুরু হবে।
বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক ভবনে এই ‘স্কুলমুখীকরণ’ কর্মসূচির সূচনা করলেন বিধায়ক ধ্রুব সাহা। সেখানে মহকুমাশাসক অশ্বিন বি রাঠোর, এআই, এসআই সহ ওই ১৩টি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা উপস্থিত ছিলেন।প্রশাসন সূত্রে খবর, যে সমস্ত খুদে পড়ুয়ারা স্কুলে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছে, বাড়িতে গিয়ে তাদের অভিভাবকদের বোঝানো হবে। এভাবে ওই শিশুদের ফের পড়াশোনার জগতে ফিরিয়ে আনাই এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য। খরুন পঞ্চায়েতের পর পর্যায়ক্রমে মহকুমার অন্য পঞ্চায়েত এলাকাতেও এই কর্মসূচি হবে।
এবিষয়ে এআই গোলাম কিবরিয়া বলেন, স্বাধীনতার পর একাধিক নীতি নেওয়া হলেও আমরা এখনও সবাইকে বিদ্যালয়মুখী করতে পারিনি। শহর ও গ্রামে স্কুলছুটের কারণ ভিন্ন। অনেকসময় শিশুদের সরকারি স্কুলে নাম লিখিয়ে বেসরকারি স্কুলে পড়ানো হচ্ছে। আমাদের মূল লক্ষ্য, সমস্ত পড়ুয়াকে স্কুলে আনা, ধরে রাখা এবং সঠিক মানের শিক্ষা দেওয়া।
এই কর্মসূচির সাফল্য শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার উপর অনেকটাই নির্ভর করবে বলে বিধায়ক জানান। তিনি বলেন, শিক্ষকদের ‘আসি যাই, মাইনে পাই’ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তাঁরা শুধু চাকরি করছেন না, তাঁরা সমাজ গড়ার কারিগর। পড়ুয়ারা না এলে শিক্ষকদেরই বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিতে হবে। বিধায়ক জানান, এই কর্মসূচি কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা দেখতে তিনি নিজে আচমকা স্কুল পরিদর্শনে যাবেন। শহর ও গ্রামাঞ্চলের স্কুলে শিক্ষক-পড়ুয়ার অনুপাতের অসমতাও তাড়াতাড়ি দূর করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
প্রশাসন জানিয়েছে, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, শিশুদের লেখাপড়ায় আগ্রহী করে তুলতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রোজেক্টর ও স্মার্ট ল্যাবের ব্যবস্থা করা হবে। পড়ুয়াদের জন্য পরিস্রুত পানীয় জল, সুসংহত শৌচাগার থাকবে। বিভিন্ন শিক্ষাসামগ্রী এবং খেলার সরঞ্জামও আগামী দিনে দেওয়া হবে।
মহকুমাশাসক বলেন, এই উদ্যোগ সফল হলে আগামী দিনে স্কুলছুটের সংখ্যা অনেকটাই কমে যাবে। এই কর্মসূচি বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা তদারকি করতে বিশেষ পর্যালোচনা ব্যবস্থা গঠিত হয়েছে। অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক এবং সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শকরা নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন করে রিপোর্ট দেবেন।