নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ঘর নেই। করিডরেই চলছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। নতুন বেড এসে পড়ে থাকলেও পাতার জায়গা নেই। শুধু তাই নয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে মেলে না কোনও সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা। রোগী ও তাদের পরিজনদের জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেই কোনও শৌচালয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ফ্রিজে সাপে কাটার প্রতিষেধক থাকলেও বেডের ব্যবস্থা না থাকায় আক্রান্তকে তা দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ। এমনই চরম অব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে চলছে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বাহাদুর পঞ্চায়েতের চড়কডাঙি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। যা নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন রোগীরা।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক প্রশান্তকুমার শীল পরিকাঠামোর অভাবের কথা স্বীকার করে বলেন, জায়গার অভাব রয়েছে। এখন আমরা কার্যত করিডরে বসে চিকিৎসা করি। কোনওমতে একটা বেড পাতা হয়েছে। নতুন বেড পড়ে রয়েছে। জায়গার অভাবে পাতা সম্ভব হচ্ছে না।
তাঁর দাবি, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পুরনো ভবন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেটি ভেঙে নতুন করে ভবন তৈরির ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মহলে বলা হয়েছে।
বাহাদুর পঞ্চায়েতের প্রধান অমিত দাস বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির হাল খুবই খারাপ। সবচেয়ে বড় কথা, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা পাওয়া যায় না। রোগী ও পরিজনদের জন্য শৌচালয়ের ব্যবস্থা পর্যন্ত নেই। তাঁর দাবি, পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে যতটা পারি করে দেওয়ার চেষ্টা করছি। স্বাস্থ্যদপ্তরকে এউদ্যোগ নিতে হবে।
জলপাইগুড়ি সদর ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ প্রীতম বসু বলেন, চড়কডাঙি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিত্যক্ত ভবন ভেঙে যাতে নতুন বিল্ডিং তৈরি করা হয়, সেব্যাপারে প্রস্তাব দিয়েছি। অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে তাঁর বক্তব্য, এখন কোনও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স নেই। আমরা মউ চুক্তি করে কিছু অ্যাম্বুলেন্স চালাচ্ছি। বাহাদুর পঞ্চায়েত এলাকায় যদি নিশ্চয়যান দরকার হয়, সেক্ষেত্রে জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতাল কিংবা সদরের গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্স যায়।
বিএমওএইচ এমনটা বললেও বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। চড়কডাঙি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে চায়ের দোকান শর্মিলা সরকারের। বলেন, আমাদের এখান থেকে বেলাকোবা হাসপাতাল ১২ কিমি। জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাবের দূরত্ব আট কিমি। মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় নিশ্চয়যান পেতে ফোন করেছিলাম। কিন্তু আসতে দীর্ঘসময় লেগে যাচ্ছে দেখে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। - নিজস্ব চিত্র।