নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উত্তরবঙ্গের ভূমিপুত্র কামতাপুরী ও রাজবংশী জনগোষ্ঠীর জন্য সুখবর! এবার প্রাথমিক স্তর থেকেই নিজেদের মাতৃভাষায় পড়াশানা করতে পারবে এই দুই জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। উত্তরবঙ্গের যে তিন জেলার ৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই দুই ঐতিহ্যবাহী ভাষায় পড়াশোনার করার সুযোগ মিলবে, তা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে প্রাথমিক স্তরে কামতাপুরী ও রাজবংশী ভাষায় শিক্ষাদানের বিষয়টি অনুমোদিত হয়েছে। একইসঙ্গে এই দুই মাধ্যমের পড়ুয়াদের শিক্ষাদানের জন্য পার্শ্ব শিক্ষক (প্রাথমিক বিদ্যালয়) নিয়োগের প্রস্তাবেও সিলমোহর দিয়েছে মন্ত্রিসভা। উত্তরবঙ্গের ভূমিপুত্রদের দীর্ঘদিনের এই দাবি পূরণ হতে চলায়, আনন্দিত দুই জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা।
প্রসঙ্গত, ক্ষমতায় আসার পর থেকে কামতাপুরী ও রাজবংশী ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চার উপর অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন মমতা। কামতাপুরী ও রাজবংশী সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এরই পাশাপাশি ভাষা ও সংস্কৃতির আরও মানোন্নয়নের লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ রাজবংশী উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক পর্ষদ এবং কামতাপুরী ভাষা আকাদেমি গঠন করেছিলেন তিনি। এই পর্বেই গত বছরের জানুয়ারি মাসের শেষে কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানের এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মমতা ঘোষণা করেছিলেন, রাজবংশী ভাষা মাধ্যমের প্রাথমিক বিদ্যালয় খুব শীঘ্রই চালু হবে। একইসঙ্গে কামতাপুরী ভাষায় পাঠ্যপুস্তক তৈরির কাজও চলছে। তা শেষ হলেই এই ভাষাতেও প্রাথমিক স্তরে পড়াশোনা করা যাবে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই ঘোষণার পর দ্রুতগতিতে এ সংক্রান্ত পরিকাঠামো গঠনের কাজ শুরু হয়ে যায়। পরিকাঠামো গঠনের পর প্রথম পর্যায়ে উত্তরবঙ্গের যে ছ’টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কামতাপুরী ও রাজবংশী ভাষায় পড়াশোনা শুরু হওয়ার প্রস্তাব এসেছে, তাতেই সিলমোহর দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। ওই সমস্ত বিদ্যালয়ের প্রতিটিতে ১০ হাজার টাকা সাম্মানিকের বিনিময়ে দু’জন করে পার্শ্বশিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়েও আর্থিক অনুমোদনও মিলেছে।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজবংশী ভাষার মাধ্যমে পড়াশোনা করার সুযোগ মিলছে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের রুনিয়া এফপি স্কুলে। কামতাপুরী ভাষায় পড়াশোনা করা যাবে উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদের দাধিকোলবাড়ির আটকারা এফপি স্কুল, দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমণ্ডি সার্কেলের মহিষবাথান এফপি স্কুল ও গঙ্গারামপুর ওয়েস্ট সার্কেলের নওদাপাড়া এফপি স্কুলে। এছাড়াও জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ির পুণ্ডিবাড়ি সিএস প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রাজধানীবাড়ি অ্যাডিশনাল প্রাইমারি স্কুলেও প্রাথমিক স্তর থেকে কামতাপুরী ভাষায় পড়াশানা করতে পারবে উত্তরবঙ্গের ভূমিপুত্র দুই জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।
রাজ্য মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তে খুশি রাজবংশী ভাষা আকাদেমির চেয়ারম্যান হরিহর দাস। তিনি বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। এতে এই ভাষার প্রসার বাড়বে। দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় সন্তুষ্ট কামতাপুরী ভাষাবিদ মিনতি অধিকারী। তাঁর কথায়, ভাষার নাম কামতাপুরী হোক, দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। আন্দোলনও হয়েছে বহুদিন ধরে। কামতাপুরী ভাষায় স্কুলে পঠনপাঠন শুরু হলে তাকে স্বাগত জানাই।