নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মান এবং পরিকাঠামো নিয়ে বিভিন্ন সময় অভিযোগের আঙুল উঠেছে রাজ্যের ডিএলএড এবং ডি ফার্ম কলেজগুলির দিকে। তাই রাজ্য এবং কেন্দ্রের নিয়ামক সংস্থাগুলি পৃথক দাওয়াই নিয়ে আসছে কলেজগুলির জন্য। এবার থেকে প্রাথমিকে শিক্ষকতার জন্য আবশ্যিক ডিগ্রি ডিপ্লোমা ইন এলিমেন্টারি এডুকেশন বা ডিএলএডের শিক্ষক বাছাই হবে কেন্দ্রীয়ভাবে। সেই দায়িত্ব নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। আর ডি ফার্ম কলেজগুলির মান যাচাই করবে ‘কোয়ালিটি কন্ট্রোল অব ইন্ডিয়া’ (কিউসিআই)। এর জন্য প্রতিটি কলেজ ৫০ হাজার টাকা করে ফি জমা দেবে কিউসিআই-কে। কেন্দ্রীয় নিয়ামক সংস্থা ফার্মেসি কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (পিসিআই) এই নির্দেশ দিয়েছে কলেজগুলিকে।
প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি গৌতম পাল জানিয়েছেন, শিক্ষক, সংশ্লিষ্ট কাস্ট ক্যাটিগরির প্রতিনিধিদের নিয়ে ইন্টারভিউ বোর্ড গঠন করা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে তাতে অংশ নিতে হবে শিক্ষকদের। কোর্সের মান ধরে রাখতে শিক্ষকদের যাচাই এবং বাছাই করার কাজটি নিজের হাতেই রাখতে চাইছে পর্ষদ। তবে ডিএলএড কলেজগুলির বক্তব্য, এতে ঢাকের দায়ে মনসা বিক্রির জোগাড় হবে! উত্তরবঙ্গ বা দূরের জেলাগুলি থেকে শিক্ষকদের নিয়ে এসে
হোটেলে রাখা, যাতায়াতের ভাড়া বহন করতে হবে কলেজগুলিকে। সেই শিক্ষককে পছন্দ না হলে পুরোটাই জলে যাবে। পড়ুয়া সংখ্যা এবং ফি কমে যাওয়ায় কলেজগুলির আয় তলানিতে। তাই তারা বিকল্প ব্যবস্থা চাইছে।
অন্যদিকে, ডি ফার্ম কলেজগুলি থার্ড পার্টি দিয়ে মূল্যায়নের বিষয়টিকে স্বাগত জানালেও ফি’র ব্যাপারে গররাজি। তাদের বক্তব্য, ১৫ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত আবেদন ও ফি জমা করা চলবে। জুলাই থেকে শুরু হবে অনসাইট মূল্যায়ন। তার আগে অনলাইনেও তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলবে। তবে, এর জন্য ৫০ হাজার টাকা ফি একটু বেশি বলেই মনে করছে তারা। তাছাড়া, পড়ুয়া সংখ্যার অভাবে এমনিতে কলেজগুলির পরিস্থিতি ভালো নয়। প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিককালে বেশ কিছু ডিএলএড এবং ডি ফার্ম কলেজের অনুমোদন বাতিল করেছে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নিয়ামক সংস্থাগুলি।