নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দোষ কাটানোর নাম করে পূজা অর্চনার পর প্রসাদের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে বাড়ির সকলকে অচৈতন্য করে সোনার গয়না হাতানোর অভিযোগ উঠেছে পুরোহিত ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে বেহালা এলাকায়। অভিযুক্ত পুরোহিত সোমনাথ গোস্বামী ও স্ত্রী টুম্পা গোস্বামীকে বৃহস্পতিবার রাতে বহরমপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে বেহালা থানা। হাতানো গয়নার সন্ধান পেতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারীর বাড়িতে কিছু সমস্যা ছিল। বিভিন্ন ধরনের কাজে তারা সফল হচ্ছিলেন না। যে কারণে হতাশায় ভুগছিল ওই পরিবার। পুজো পাঠ করাবেন বলে ভালো পুরোহিতের খোঁজ করছিলেন। গৃহকর্ত্রী এক পরিচিতের মাধ্যমে জানতে পারেন, বহরমপুরে একজন তান্ত্রিক আছে। তিনি তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই তান্ত্রিক জানায়, বাড়িতে নেগেটিভ এনার্জি বাসা বেঁধেছে। পুজোপাঠ ও যজ্ঞ করলে সব কেটে যাবে। ২০২৩ সাল থেকে তাঁদের বাড়িতে আসা-যাওয়া শুরু করে ওই পুরোহিত ও তার স্ত্রী। পুজোপাঠের পর বিভিন্ন অজুহাতে তারা ওই দম্পতির কাছ থেকে ৩ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। তারপরেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় তান্ত্রিক জানায়, সোনা দিয়ে পুজো করতে হবে। তবেই ফাঁড়া কাটবে। তাঁদের বলা হয়, বাড়িতে থাকা সমস্ত সোনার গয়না এক জায়গায় জড়ো করতে। সেইমতো তাঁরা সেটি করেন। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে পুরোহিত স্ত্রীকে নিয়ে ওই বাড়িতে যায়। পুজো শেষে বাড়ির সকলকে প্রসাদ দেয় তারা। তা খাওয়ার পর বাড়ির সকলে অচৈতন্য হয়ে পড়ে। এই সুযোগে আট লক্ষ টাকা মূল্যের সোনার গয়না নিয়ে পালায়। পরে ওই পরিবার পুরোহিতের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁদের হুমকি দেয়। এরপরই বেহালা থানায় অভিযোগ হয়। পুলিশ তদন্তে নেমে বহরমপুরে হানা দিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার আলিপুর আদালতে তোলা হয় অভিযুক্তদের। সরকারি আইনজীবী সাজ্জাদ আলি খান বলেন, দুই অভিযুক্ত সোনার গয়না হাতানোর উদ্দেশ্যেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। ধৃতদের জেরা করে সোনার গয়নার সন্ধান পেতে চাইছে পুলিশ। সওয়াল শেষে তাদের পুলিশি হেফাজতে পাঠায় আদালত।



