সংবাদদাতা, বহরমপুর: প্যাকেটের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ায় পেঁয়াজ চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে। চাষিদের দাবি, পেঁয়াজের দাম তলানিতে এসে ঠেকেছে। অথচ দশ দিনে প্যাকেটের দাম প্রায় দ্বিগুন বেড়েছে। চাষিদের বক্তব্য, দশদিন আগে যে প্যাকেট ১৩টাকা ৮০ পয়সা দামে তাঁরা কিনেছেন রবিবার সেই প্যাকেট ২৭ টাকা দামে কিনতে হয়েছে। প্যাকেটের কালোবাজারির অভিযোগ তুলতে শুরু করেছেন মুর্শিদাবাদের পেঁয়াজ চাষিরা। প্যাকেটের দাম বাড়ায় পেঁয়াজ চাষিদের সঙ্গে একইভাবে আলু চাষিদের উদ্বেগ বাড়ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, এবার আলু এবং পেঁয়াজের ফলন ব্যপক বাড়ায় প্যাকেটের চাহিদা প্রচুর। সেই তূলনায় জোগানের অভাব। ফলে দামে তার প্রভাব পড়েছে। প্যাকেট ব্যবসায়ীরা কালোবাজারির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মুর্শিদাবাদে ১৬ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে সুখসাগর পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়। বড়ঞা ব্লক আলু চাষের জন্য বিখ্যাত। নওদা ব্লকে সব থেকে বেশি পরিমাণ জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়। মোট চাষের ৭০-৭৫ শতাংশ জমিতে সুখসাগর পেঁয়াজের চাষ হয়। এবার বিঘা প্রতি ৫০-৫৫ কুইন্টাল হারে পেঁয়াজের ফলন হয়েছে। যা সর্বকালের সেরা বলেই দাবি চাষিদের। ফলন বাড়লেও পেঁয়াজের দাম নিয়ে তাঁদের মুখভার। চাষিরা ৬৫০-৭০০ টাকা কুইন্টাল হিসাবে দাম পাচ্ছেন। এক বছর আগে এই সময় পেঁয়াজ চাষিরা ১২০০ টাকা কুইন্টালে ফসল বিক্রি করেছেন। গর বছর প্যাকেটের দাম ছিল ১০-১১টাকা। এবার সেই প্যাকেটের দাম ২৭ টাকায় ঠেকেছে।
নওদা ব্লকের পরেশনাথপুরের বাসিন্দা সুজয় মণ্ডল বলেন, এবার পেঁয়াজে খুব ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু চাষিরা দাম পাচ্ছেন না। লাভের গুড় পিঁপড়েয় (প্যাকেট) খাচ্ছে। এবার সুজয়বাবু বারো বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। চাঁদবাজের পেঁয়াজ চাষি নূরজামাল মণ্ডল বলেন, পেঁয়াজ ওঠার মুখে প্যাকেটের দাম ছিল ১৩ টাকা ৮০ পয়সা। কদিনে লাফিয়ে দুইগুন দাম হওয়ার পিছনে আমরা প্যাকেটের কালোবাজারির সন্দেহ করছি। এই পরিস্থিতিতে এবার ফলন বেশি হলেও পেঁয়াজ চাষে লাভের মুখ দেখা কঠিন। হিমঘরে আলু রাখার জন্য চাষিদের নতুন প্যাকেটেই আলু রাখতে হয়। আলু চাষি অজয় পাল বলেন, প্যাকেট কিনতে এসে মাথায় হাত পড়েছে। প্যাকেটের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি হয়েছে। নওদা এলাকার প্যাকেট ব্যবসায়ী মুসতাফিজুর শেখ বলেন, চাহিদার তূলনায় জোগান কম। দাম বৃদ্ধির পিছনে এটাই অন্যতম কারণ।