সংবাদদাতা, বোলপুর: ফলন ভালো। হিমঘরেও মজুত বিপুল পরিমাণ আলু। কিন্তু বাজারে চাহিদার তুলনায় জোগান বেশি হওয়ায় কমেছে আলুর দাম। লোকসানের আশঙ্কায় চাষিরা। এই পরিস্থিতিতে উদ্বৃত্ত আলু ভিনরাজ্যে পাঠানোর উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। পাশাপাশি রাজ্যেই আলুর বীজ উৎপাদন, হিমঘরের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং আলু প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে জোর দেওয়ার কথা জানালেন কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল।
নরেন্দ্র মোদীর ২৫ বছরের জনসেবা ও সুশাসন স্মরণে বিজেপির ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ উপলক্ষ্যে বুধবার বোলপুরে দলের কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক হয়। সেখানেই আলুর দাম নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান কৃষিমন্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন বোলপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল, দুবরাজপুরের বিধায়ক অনুপ কুমার সাহা এবং লাভপুরের বিধায়ক দেবাশিস ওঝা।
বীরভূমে রয়েছে ১৮টি হিমঘর। বোলপুর, সিউড়ি ও রামপুরহাট মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় আলু চাষ হয়। এ বছর ফলন ভালো হওয়ায় মজুতও বেড়েছে। বীরভূম জেলা আলু ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির হিসাব অনুযায়ী, ১৮টি হিমঘরে মোট ৪১ লক্ষ ৯৭ হাজার ৬৫৩ বস্তা আলু তোলা হয়েছিল। ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত বেরিয়েছে ১৫ লক্ষ ৯৫ হাজার ১০৮ বস্তা। অর্থাৎ প্রায় ৩৮ শতাংশ। এখনও হিমঘরে পড়ে রয়েছে ২৬ লক্ষ ২ হাজার ৫৪৫ বস্তা, প্রায় ৬২ শতাংশ।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের সীমানা খুলে দেওয়া হয়েছে। অন্য রাজ্যে আলু পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চাহিদার তুলনায় বেশি আলু থাকায় দাম কমেছে। চাষিরা যাতে ক্ষতির মুখে না পড়েন, সরকার সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করছে।
চাষিদের দাবি, বর্তমান দামে উৎপাদন খরচই উঠছে না। লাভপুর ব্লকের আলুচাষি সুজিত ঘোষ বলেন, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিক ও হিমঘরের খরচ রয়েছে। এখন ৫০ কেজি বস্তা পিছু ১৫০ টাকা দাম মিলছে, তাতে লোকসান হচ্ছে। বাইরে আলু গেলে দাম কিছুটা বাড়বে বলে আশা করছি। জেলার আলু ব্যবসায়ী সংগঠনের সম্পাদক দীনবন্ধু মণ্ডল বলেন, বর্তমান দামে চাষিরা ক্ষতির মুখে। হিমঘরে এখনও বিপুল আলু রয়েছে। একসঙ্গে সেই আলু বাজারে এলে দাম আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে আলুর বীজের জন্য অন্য রাজ্যের উপর নির্ভরতা কমাতেও উদ্যোগী হয়েছে সরকার। বাংলার মাটি ও জলবায়ুর উপযোগী বীজ নিয়ে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। এই নিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাতেই আলুর বীজ উৎপাদন হবে। কৃষকদের আর পাঞ্জাব বা অন্য রাজ্যের উপর নির্ভর করতে হবে না।শুধু বীজ নয়, আলু থেকে বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত পণ্য তৈরির পরিকাঠামো গড়ার উপরও জোর দেওয়া হবে। উন্নত করা হবে হিমঘরের পরিকাঠামো। বন্ধ সমবায় ও হিমঘরগুলি ফের চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। হিমঘরে অনিয়ম ও কালোবাজারি রুখতেও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী।