Bartaman Logo
৬ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

জ্বালানির জন্যই মূল্যবৃদ্ধি আকাশছোঁয়া, স্বীকার রিজার্ভ ব্যাংক গভর্নরের, বাড়বে আরও, আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

খাদ্যদ্রব্য, পেট্রল, ডিজেল, গ্যাস এবং মূল্যবান ধাতু অর্থাৎ সোনা-রুপো। এই সেক্টরগুলির অভিঘাতেই আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি।

জ্বালানির জন্যই মূল্যবৃদ্ধি আকাশছোঁয়া, স্বীকার রিজার্ভ ব্যাংক গভর্নরের, বাড়বে আরও, আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের
  • ৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: খাদ্যদ্রব্য, পেট্রল, ডিজেল, গ্যাস এবং মূল্যবান ধাতু অর্থাৎ সোনা-রুপো। এই সেক্টরগুলির অভিঘাতেই আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি। আর এই তালিকায় মূল্যবৃদ্ধির দায় সবথেকে বেশি খাদ্য ও জ্বালানির। এই দু’টি ক্ষেত্রে দাম কমা তো দূরঅস্ত, উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। লাগাতার। সেই কারণেই শত সদিচ্ছা থাকলেও রেপো রেট কমানোর পথে হাঁটতে পারছে না রিজার্ভ ব্যাংক। বুধবার আরবিআইয়ের নীতি নির্ধারণ কমিটির বৈঠকেও রেপো রেট একই রেখে দেওয়া হয়েছে। ৫.২৫ শতাংশ। গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা বলেছেন, ‘কোর সেক্টরের মূল্যবৃদ্ধিকে যদিও বা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে, কিন্তু সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধির হার ৫ শতাংশের নীচে নামছে না। তার কারণ, খাদ্য ও জ্বালানি। এই দু‌ই পণ্যের সাপ্লাই সাইড, অর্থাৎ চাহিদা অনুযায়ী জোগানের সমস্যা সামগ্রিক সংকট আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।’ মালহোত্রা বলেছেন, ‘কোর সেক্টরের সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধি চলতি আর্থিক বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে সর্বোচ্চ হবে। তারপর আবার তা কমতে পারে।’ কিন্তু এই আশ্বাস খাদ্য ও জ্বালানি সেক্টরের ক্ষেত্রে দিতে পারেননি তিনি। বরং আরও বাড়ার আশঙ্কাই প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক আর্থিক সমীক্ষক সংস্থা মরগ্যান স্ট্যানলির প্রকাশ করা রিপোর্টেও কিন্তু বলা হয়েছে, ভারতে মূল্যবৃদ্ধি আগামী দিনেও উদ্বেগজনক হতে চলেছে। সবজি, নিত্যপণ্য চলে যাচ্ছে মানুষের নাগালের বাইরে।

Advertisement

আর্থিক বৃদ্ধির হারও যে এর ফলে ধাক্কা খাচ্ছে, সেকথা স্বীকার করছেন গভর্নর। মালহোত্রার স্পষ্ট বার্তা, ‘মূল্যবৃদ্ধির গতিপ্রকৃতি, পরিস্থিতি এবং সম্ভাবনা সম্পর্কে আরও স্বচ্ছতা যতক্ষণ না আসছে, ততক্ষণ নীতি বদলের সম্ভাবনা কম। অর্থাৎ রেপো রেট ততদিন কমবে না।’ প্রসঙ্গত, গত বছরের ডিসেম্বর মাসের পর যতবারই রিজার্ভ ব্যাংকের নীতি নির্ধারণ কমিটির বৈঠক হয়েছে, ততবারই রেপো রেট অপরিবর্তিত থেকেছে। ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে এই হার ছিল ৪ শতাংশ। রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ বাঁধার পর রেপো রেট বাড়তে থাকে। এখনও ওই অঙ্কে সেই হার নিয়ে যেতে ব্যর্থ রিজার্ভ ব্যাংক। রেপো রেট কমে যাওয়ার অর্থ ইএমআইয়ের বোঝা নেমে আসা, মধ্যবিত্তের সুরাহা। সেই সৌভাগ্যে এখনও বঞ্চিত দেশবাসী। তার মূল কারণ কী? ঊর্ধ্বমুখী খাদ্যপণ্য এবং পেট্রল-ডিজেল। এই বার্তায় আরবিআই গভর্নর পরোক্ষে বুঝিয়ে দিলেন, এই দু’টি সেক্টরের মূল্যবৃদ্ধি কেন্দ্রের নীতির উপর নির্ভরশীল। আর এই দুই সেক্টরই ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’। তিনি নির্দিষ্টভাবে বলেছেন, ‘খাদ্যপণ্যের সাপ্লা‌ই ম্যানেজমেন্ট এবং খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত ভাণ্ডারই পারে এই সমস্যাকে কমাতে।’ অর্থাৎ যা সরকারের অধীনে। এখানেই শেষ নয়। মরগ্যান স্ট্যানলির রিপোর্টের সুরেই বুধবার রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর বলেছেন, ‘খুচরো বাজারে দামবৃদ্ধি চিন্তার কারণ।’ এর পাশাপাশি দায় ঠেলেছেন তিনি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির উপর। ইঙ্গিত কি ভারত মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির দিকে? 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ