Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রয়াগ-পথে কুলটিতে লরির পিছনে ধাক্কা গাড়ির, মৃত ২, জখম ৬

প্রয়াগ-পথে কুলটিতে লরির পিছনে ধাক্কা গাড়ির, মৃত ২, জখম ৬
  • ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল ও সাংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: প্রয়াগরাজে কুম্ভস্নানে যাওয়ার পথে বুধবার গভীর রাতে কুলটি থানার চৌরঙ্গি ফাঁড়ির কাছে পথ দুর্ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও ছ’জন জখম হয়েছেন। মৃতদের নাম শান্তনু মুখোপাধ্যায়(৬৫) ও শৈলেন বন্দ্যোপাধ্যায়(৬০)। দু’জনেরই বাড়ি বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর থানার অযোধ্যা গ্রামে। ১৯নম্বর জাতীয় সড়কে এই দুর্ঘটনায় চারচাকা গাড়িটি দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছে। গাড়ির চালকের দাবি, পিছন থেকে একটি লরি তাঁদের গাড়িতে ধাক্কা মারে। সামনে থাকা লরিটি আচমকা গ঩তি কমিয়ে দেওয়ায় তার পিছনে গিয়ে তিনি ধাক্কা মারেন। যদিও পুলিস তার দাবি মানতে চায়নি। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিস কমিশনারেটের এসিপি(কুলটি) শেখ জাভেন হুসেন বলেন, রাতে দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা যাত্রীদের উদ্ধার করে আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছি। কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 
Advertisement
অযোধ্যা গ্রামের বাসিন্দা শান্তনুবাবু ও শৈলেনবাবু ঘনিষ্ঠ বন্ধু। শান্তনুবাবু বিষ্ণুপুর মহকুমা অফিসের কর্মী ছিলেন। পাঁচ বছর আগে তিনি অবসর নিয়েছেন। শৈলেনবাবু এলাকায় টিউশনি পড়ান। তিনি অযোধ্যা হাইস্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সম্পাদক। দুই বন্ধুর পরিবার একসঙ্গে প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভে স্নান করার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। শান্তনুবাবুর স্ত্রী মনসা মুখোপাধ্যায়, ছেলে সৌরভ ও বউমা অনন্যাও যাচ্ছিলেন। শৈলেনবাবুর স্ত্রী মন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্যালিকা শিউলি কর্মকারও গাড়িতে ছিলেন। বুধবার রাতে খাওয়াদাওয়া করেই তাঁরা গাড়িতে ওঠেন। সাতজনকে নিয়ে গাড়িচালক সোমনাথ মুখোপাধ্যায় প্রয়াগের উদ্দেশে রওনা দেন। জাতীয় সড়কে ধানবাদ অভিমুখে যাওয়া লেন ধরে দ্রুতগতিতেই ছুটছিল গাড়িটি। চালকের দাবি, চৌরঙ্গি মোড়ে কাছে রাস্তাটি সংকীর্ণ রয়েছে। সার্ভিস রোডও আছে। আচমকা একটি লরি তাঁদের গাড়িতে ধাক্কা মারে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় যান ট্রাফিক পুলিসের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। চালক সহ আটজনকে উদ্ধার করে আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক দু’জনকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি ছ’জনের চিকিৎসা শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেন ডিসি ট্রাফিক সতীশ পশুমূর্তি। ট্রাফিক পুলিস গাড়ির চালকের যুক্তি মানতে নারাজ। তাদের দাবি, গাড়িটি ঘণ্টায় একশো কিমির চেয়ে বেশি গতিতে ছুটছিল। জাতীয় সড়কের উপর ব্রিজে ওঠার সময় সামনে থাকা লরিটি গতি কমতেই চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লরির পিছনে ধাক্কা মারেন। চালকের পাশের আসনেই বসেছিলেন শৈলেন ও শান্তনুবাবু। শিউলিদেবীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তর করা হয়। আরও তিনজনকে বাঁকুড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শৈলেনবাবুর স্ত্রীকে বিষ্ণুপুরের একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মৃত শান্তনুবাবুর ভাই ব্যোমকেশ মুখোপাধ্যায় বলেন, এমন পরিণতি হবে কেউ কল্পনাও করিনি।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ