Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

বিরোধীদের চাপ, ভোটের হার দ্রুত জানাবে কমিশন

বিরোধীদের চাপ, ভোটের হার দ্রুত জানাবে কমিশন
  • ৪ জুন, ২০২৫ ১১:০৬
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ঘণ্টায় ঘণ্টায় ভোটার টার্নআউট (ভিটিআর) জানাতে হবে—এ কথা জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে কোথাও বলা নেই। তাই নেই কোনও দায়বদ্ধতাও। তাই গোটা ব্যবস্থাটাই বন্ধ করার পক্ষে ছিল নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকদের একাংশ। কিন্তু তাতে বিতর্ক আরও বাড়ত বই কমত না। একেই শেষবেলায় ভোটদানের হার আচমকাই গোটা দিনের গড়ের চেয়ে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে বিগত বেশ কয়েকটি নির্বাচনে। খোদ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘কারচুপি’র অভিযোগ উঠেছে। তার উপর যদি কমিশনের অ্যাপে ভোটদানের হার জানানোর ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে বিরোধীরা যে খড়্গহস্ত হবে বলাই বাহুল্য। তাই সেই ভাবনা শিকেয় তুলে বিরোধীদের চাপে শেষবেলার ভোটদানের হার দ্রুত জানানোর সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সেই মতো প্রিসাইডিং অফিসারদের কাছে যাচ্ছে নির্দেশ—নির্বাচনের দিন সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ভোটদানের হার জানিয়ে তবে বুথ ছাড়তে পারবেন। এবং আর কোনও ভায়া-মাধ্যম নয়, সরাসরি কমিশনের নির্দিষ্ট নতুন অ্যাপে তা আপলোড করতে হবে প্রিসাইডিং অফিসারদেরই। আসন্ন উপ নির্বাচনের পাশাপাশি বিহার বিধানসভা ভোটে এই নতুন অ্যাপটি (ECINET) কার্যকর করা হবে। 

Advertisement

শেষবেলায় ভোটদানের হার অনেকটা বেড়ে যাওয়া নিয়ে অবশ্য ইতিমধ্যেই ব্যাখ্যা দিয়েছে কমিশন। জানানো হয়েছে, ‘রিয়েল টাইম ডেটা আপলোডে’র সময়ের ফারাকই এক্ষেত্রে দায়ী। যদিও সেকথা মানতে নারাজ রাজনৈতিক দলগুলি। দিল্লি হোক বা মহারাষ্ট্র, গত কয়েকটি ভোটে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত যে পরিমাণ ভোট পড়েছে, তার তুলনায় শেষবেলার হার গোটা দিনের গড়ের চেয়ে অনেক ক্ষেত্রে বেশি মনে হয়েছে। তাই বিরোধী দলগুলি কাঠগড়ায় তুলেছে কমিশনকে। প্রশ্ন তুলেছে, কেন কমিশনের অ্যাপে ‘ভিটিআর’ তথ্য আপলোড হচ্ছে না? হলেও অনেক দেরিতে কেন? তবে কি কারচুপি চলছে? এমনকী কোনও বুথে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে কেন্দ্রের শাসকদলের সঙ্গে কমিশনের আঁতাতের অভিযোগও উঠেছে। 
এই সমস্ত সমালোচনা এড়াতে নতুন সিদ্ধান্ত নিল কমিশন। নির্বাচনের দিন ভোটপর্ব মিটতেই নির্বাচনী এজেন্টদের ‘ফর্ম ১৭-সি’ দেওয়া হয়। সেখানেই থাকে বুথভিত্তিক ডেটা। তবে সেই তথ্য কমিশনের অ্যাপে তুলতে দেরি হয়। কেন এই বিলম্ব? কমিশন জানিয়েছে, ভোট পর্ব মিটলে বুথে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে ৭৫টি ধাপ পেরতে হয়। তাছাড়া সকাল থেকে যখন ভিটিআর আপলোড করা হয়, সেটা নির্দিষ্ট সময়েরও নয়। বরং কিছুক্ষণ আগের। সেক্টর অফিসারকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর ভোটদানের হার জানাতে হবে বলে কিছুক্ষণ আগেই তথ্য নোট করে রাখেন প্রিসাইডিং অফিসাররা। সেক্টর অফিসার তা জানান রিটানিং অফিসারকে। তারপর সেটি আপলোড হয়। অর্থাৎ তা রিয়েল টাইম ডেটা নয়। আবার বিকাল পাঁচটার পর ডেটা আপলোড করা হয় না। শুধু নির্বাচনী এজেন্টদের জানিয়ে দেওয়া হয়। বিকাল পাঁচটার ডেটাও আগে নেওয়া। ভোটকর্মীরা স্ট্রংরুমে ইভিএম রেখে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করে তবেই তথ্য আপলোড করেন। আর তা করতে অনেক দেরি হয়। তাই শেষবেলার ভোটদানের হার যখন বেশি রাতে আপলোড করা হয়, তখন আপাতভাবে বেশি দেখায়। তবে বিরোধীদের চাপে এবার সেই ব্যবস্থা বদলে বাধ্য হল কমিশন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ