নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বীরভূম জেলার ১১টি বিধানসভা আসনের মধ্যে এখন তৃণমূলের দখলে রয়েছে ১০টি আসন। শুধুমাত্র দুবরাজপুর আসনটি বিজেপির দখলে রয়েছে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ১১টি আসনেই জয়ের টার্গেট বেঁধে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে বীরভূম জেলা নিয়ে তৃণমূলের সাংগঠনিক বৈঠক হয়। অভিষেক ছাড়াও বৈঠকে ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বকশি। বীরভূম জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য, বিধায়ক এবং শাখা সংগঠনের জেলা প্রধানদের বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। যেখানে বিধানসভা আসন ভিত্তিক ফলাফল নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়েছে। তাতেই বৈঠকে অভিষেক স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, জেলার সর্বত্র উন্নয়ন করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলার দুটি লোকসভা আসনেই তৃণমূল জিতেছে। তাহলে সবাই মিলে একজোট হয়ে চেষ্টা করলে জেলার ১১টি বিধানসভা আসনেই তৃণমূলের জয় সম্ভব। পাশাপাশি বৈঠকে আলোচিত হয়েছে, সবাইকে নিয়ে চলতে হবে এবং কোর কমিটি জেলায় তৃণমূলের সংগঠনকে শক্তিশালী করার কাজ চালিয়ে যাবে।
২০১৯ সালের লোকসভা, ২০২১ সালের বিধানসভা ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ধরে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সেখানে কোন এলাকায় তৃণমূল সাংগঠনিকভাবে দুর্বল রয়েছে, সেটাও চিহ্নিত করা হয়েছে বৈঠকে। সূত্রের খবর বৈঠকে অভিষেকের স্পষ্ট নির্দেশ, যে বুথ বা অঞ্চলে পরপর হার হচ্ছে, সেখানে যিনি সভাপতি বা দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁকে বদল করতে হবে। কারণ বারবার হার হচ্ছে, ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। সুতরাং ওখানে বদল দরকার।
এদিনের বৈঠকে অনুব্রত মণ্ডল, কাজল শেখ হাজির ছিলেন। সিউড়ি-২ ব্লক নিয়ে মৃদু মত পার্থক্য দুজনের মধ্যে হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। কে দায়িত্ব পাবেন, তা নিয়ে দুজনই আলাদাভাবে নিজের মত ব্যক্ত করেন। তিন-চারজনের কোনও কোর কমিটি ওই এলাকার জন্য করার বিষয়ে বৈঠকে কথা হয়েছে। তবে ওই এলাকার বিষয়ে দলের কাছে পূর্ণাঙ্গ খবর রয়েছে। সেখানে কী করা যায়, তা নিয়ে দল সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানানো হয়েছে। এছাড়াও রামপুরহাট টাউন সভাপতি নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে। সেই বিষয়টি সম্পর্কে বিধায়ককে দেখবার কথা বলা হয়েছে বৈঠকে। একইসঙ্গে ময়ূরেশ্বর ও নলহাটির যুব সভাপতি সংক্রান্ত বিষয়টি দেখবার দায়িত্ব জেলা যুব সভাপতিকে দেখতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, এসআইআর নিয়ে নজর রাখা, ভোটার তালিকার কাজ ঠিকমতো করা, কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান কর্মসূচিতে বেশি মাত্রায় অংশগ্রহণের বার্তা দেওয়া হয়েছে বৈঠকে।