Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গাডরাসিনী পাহাড়দেবের আরাধনার প্রস্তুতি তুঙ্গে

গাডরাসিনী পাহাড়দেবের আরাধনার প্রস্তুতি তুঙ্গে
  • ২৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: চারিদিকে জঙ্গল। তার মাঝে বেলপাহাড়ী এলাকায় গাডরাসিনী পাহাড় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে। পাহাড় ও অরণ্যের বাসিন্দাদের তিনিই রক্ষাকর্তা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে শুরু করে হড়পা বান রোধ ও বৃষ্টির আশায় পাহাড়দেবের পুজোয় মাতোয়ারা হন বাসিন্দারা। 

Advertisement

বিনপুর-২ ব্লকের ১৬টি মৌজার বাড়ি, বাড়িতে এখন উৎসবের আবহ। পাহাড় চূড়ায় ফুল, ফল নিবেদন করা হবে। আষাঢ় মাসে অম্বুবাচী পুজোর পরের দিন পাহাড় পুজো হয় বিনপুরে। ঝাড়গ্রাম-ঝাড়খণ্ড লাগোয়া কানাইসর পাহাড় পুজোর কথা সবাই জানেন। কিন্তু গাডরাসিনী পাহাড় পুজোর কথা বাইরের বেশিরভাগ মানুষের কাছে আজও অজানা। তুলসিবনী, আগুইবিল, গজপাথর, বেংভুটা, গোহালবেড়া, আমলাশোলের মতো ১৬টি মৌজার বাসিন্দাদের উদ্যোগে এই পাহাড়পুজো হয়। 
লোকমুখে ছড়িয়ে আছে বহু যুগ আগে বন্যায় প্লাবিত হয়েছিল পাহাড় সংলগ্ন এই এলাকা। অরণ্যের পশু-পাখি সহ স্থানীয় মানুষদের পূর্বপুরুষরা পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে রক্ষাকর্তা গাডরাসিনী পাহাড় দেবতার পুজো হয়ে আসছে এখানে। পূর্বে আগুইবিল গ্ৰামের পূজারী লায়া বা দেহরিরা পাহাড় পুজোর দায়িত্বে ছিলেন। কাট্টারা ও বেংভুটা গ্ৰামের বাসিন্দারা এখন পুজোর দায়িত্বে। পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়ায় বাবা মোক্ষনাথের মন্দির। পাহাড়ের উত্তরে ঢাল বরাবর গুহা রয়েছে। গুহার উপরের অংশে নারকেল, আপেল, বাতাসা, ধূপ-ধূনো দিয়ে পুজোর প্রথম পর্বের সূচনা হয়। গুহার নিচের অংশে ছাগ বলির রীতি রয়েছে। পুজো উপলক্ষ্যে পাহাড়ের পাদদেশে প্রতিবারের মতো এবারও বসবে মেলা। ধামসা, মাদল, কাঁসর, ঘণ্টায় মুখরিত হবে তামাম এলাকা। পাহাড় চূড়ায় উঠে ভক্তরা আকাশে রংবেরঙের ঘুড়ি ওড়াবেন। পাহাড়দেব এই পুজো নিয়ে যাতে রুষ্ট না হন, ভক্তরা তার জন্য প্রথা ও রীতি মেনে চলেন। আগুইবিল গ্ৰামের বাসিন্দা ভূমিজ সম্প্রদায়ের দেবজ্যোতি সিংহ বলেন, গাডরাসিনী পাহাড়ের প্রথম পুজো হয়। তারপর  অন্যান্য পাহাড়ের পুজো হয়। আগামী শনিবার পুজোর সূচনা হবে। প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। ঝাড়গ্রাম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন বিধান দেবনাথ। বিধানবাবু বলেন, গাডরাসিনী পাহাড় পুজোর পর, কানাইসর, গজাডুংরি, খুড়িডুংরি, গোটাশিলা পাহাড়ের পুজো হয়। প্রত্ন গবেষক পরেশচন্দ্র দাসগুপ্ত সিজুয়া মৌজায় দশ হাজার বছরের প্রাচীন এক মানুষের চোয়ালের প্রস্তরীভূত শিলা আবিষ্কার করেছিলেন। সভ্যতার উষালগ্ন থেকেই আদিম মানুষ প্রকৃতিকে পুজো করে আসছে। এই পাহাড়পুজো তারই স্মৃতি বহন করছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ