অমিত চৌধুরী, তারকেশ্বর: তারকেশ্বর পিয়াসাড়া গ্রামের সরকার বাড়িতে ১৭২০ সাল নাগাদ শুরু হয়েছিল দুর্গাপুজো। বাড়ির দুর্গা প্রতিমার চার হাত। বর্ধমানের রাজার অধীন ছিল তারকেশ্বর। কথিত, ১৭২০ সালে তারকেশ্বর পিয়াসাড়ার জমিদার শরৎচন্দ্র খাঁ বর্ধমান রাজাকে সময়ে কর দিতে পারেননি। ফলে তাঁকে বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বর্ধমানে। দুর্গাপুজোর আগে প্রজারা জমিদারের জন্য অপেক্ষা করে রয়েছে। তাই পিয়াসাড়া গ্রামে ফিরে আসতে চান শরৎচন্দ্র। কিন্তু অনুরোধ মানা হয়নি। তাই মুক্তির দাবিতে অনশন শুরু করেন জমিদার। তবে বর্ধমানের রাজা ছিলেন ধর্মপ্রাণ। পুজোর কয়েকদিন আগে মুক্তি দিয়ে দেন শরৎচন্দ্রকে। আর শর্ত দেন, তারকেশ্বরে গিয়ে দুর্গাপুজো করতে হবে। শরৎচন্দ্র শর্ত মেনে ছাড়া পান। পিয়াসাড়া ফিরে আসেন। তিনি সত্য বলেছিলেন কি না জানতে তারকেশ্বরে দূত পাঠান় বর্ধমানরাজ। দূত ফিরে রাজাকে পুজোর আয়োজন ও জাঁকজমকের কথা জানান। খুশি হন মহারাজ। তারপর শরৎচন্দ্রের জমিদারি এলাকা নিঃশুল্ক ঘোষণা করে দেন। সঙ্গে সরকার উপাধি দেন। তারকেশ্বর মঠের তখনকার মহারাজদের সঙ্গেও সুসম্পর্ক ছিল এই পরিবারের। তখন বর্গী আক্রমণের ভয়। তাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে বিশেষভাবে তৈরি হয়েছিল কাছারিবাড়ি। ভিতরে লুকিয়ে থেকে অস্ত্র চালাতে পারতেন সেনারা। এখনও কাছারিবাড়ির বিশাল বিশাল স্তম্ভ দেখলে জমিদার আমলের কথা কল্পনায় আসে। ভগ্নপ্রায় হলেও বাড়ির অপূর্ব স্থাপত্য মুগ্ধ করার মতো। হাতি দরজা দিয়ে তারকেশ্বর মঠের মহারাজরা হাতি নিয়ে ঢুকতেন।



