Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তারকেশ্বরে পিয়াসাড়ায় ৩০০ বছরের পুরনো পুজোয় প্রতিমার চারহাত, জোরকদমে প্রস্তুতি

তারকেশ্বর পিয়াসাড়া গ্রামের সরকার বাড়িতে ১৭২০ সাল নাগাদ শুরু হয়েছিল দুর্গাপুজো। বাড়ির দুর্গা প্রতিমার চার হাত।

তারকেশ্বরে পিয়াসাড়ায় ৩০০ বছরের পুরনো পুজোয় প্রতিমার চারহাত, জোরকদমে প্রস্তুতি
  • ২৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অমিত চৌধুরী, তারকেশ্বর: তারকেশ্বর পিয়াসাড়া গ্রামের সরকার বাড়িতে ১৭২০ সাল নাগাদ শুরু হয়েছিল দুর্গাপুজো। বাড়ির দুর্গা প্রতিমার চার হাত। বর্ধমানের রাজার অধীন ছিল তারকেশ্বর। কথিত, ১৭২০ সালে তারকেশ্বর পিয়াসাড়ার জমিদার শরৎচন্দ্র খাঁ বর্ধমান রাজাকে সময়ে কর দিতে পারেননি। ফলে তাঁকে বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বর্ধমানে। দুর্গাপুজোর আগে প্রজারা জমিদারের জন্য অপেক্ষা করে রয়েছে। তাই পিয়াসাড়া গ্রামে ফিরে আসতে চান শরৎচন্দ্র। কিন্তু অনুরোধ মানা হয়নি। তাই মুক্তির দাবিতে অনশন শুরু করেন জমিদার। তবে বর্ধমানের রাজা ছিলেন ধর্মপ্রাণ। পুজোর কয়েকদিন আগে মুক্তি দিয়ে দেন শরৎচন্দ্রকে। আর শর্ত দেন, তারকেশ্বরে গিয়ে দুর্গাপুজো করতে হবে। শরৎচন্দ্র শর্ত মেনে ছাড়া পান। পিয়াসাড়া ফিরে আসেন। তিনি সত্য বলেছিলেন কি না জানতে তারকেশ্বরে দূত পাঠান় বর্ধমানরাজ। দূত ফিরে রাজাকে পুজোর আয়োজন ও জাঁকজমকের কথা জানান। খুশি হন মহারাজ। তারপর শরৎচন্দ্রের জমিদারি এলাকা নিঃশুল্ক ঘোষণা করে দেন। সঙ্গে সরকার উপাধি দেন। তারকেশ্বর মঠের তখনকার মহারাজদের সঙ্গেও সুসম্পর্ক  ছিল এই পরিবারের। তখন বর্গী আক্রমণের ভয়। তাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে বিশেষভাবে তৈরি হয়েছিল কাছারিবাড়ি। ভিতরে লুকিয়ে থেকে অস্ত্র চালাতে পারতেন সেনারা। এখনও কাছারিবাড়ির বিশাল বিশাল স্তম্ভ দেখলে জমিদার আমলের কথা কল্পনায় আসে। ভগ্নপ্রায় হলেও বাড়ির অপূর্ব স্থাপত্য মুগ্ধ করার মতো। হাতি দরজা দিয়ে তারকেশ্বর মঠের মহারাজরা হাতি নিয়ে ঢুকতেন।

Advertisement

এই পুজোর বিশেষত্ব হলো দেবীর রূপ। তাঁর চারহাত। ত্রিশূল, চক্র, কাত্তান, ঢাল থাকে হাতে। মানব মণ্ডল নামে স্থানীয় এক শিক্ষক জানান, ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে এই পরিবারের পুজোর। দুর্গার পাশাপাশি বাসন্তীপুজোর প্রচলনও ছিল। বহু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থে তারকেশ্বরের ইতিহাসের সঙ্গে এই পরিবারের ইতিহাসেরও উল্লেখ রয়েছে। সরকার পরিবারের সদস্য বিশ্বনাথবাবু জানান, আর্থিক অবস্থা আজ তেমন নেই। তবে সাধ্য অনুযায়ী নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো করা হয়। রথের দিন মাটি দেওয়া হয় কাঠামোতে। দেবীর ডাকের সাজ। বিশাল বাড়িটি ভগ্নপ্রায়। সরকার যদি অধিকগ্রহণ করে সংস্কার করে তাহলে আমাদের পরিবারের থেকে তা তুলে দেওয়া হবে। আমাদের এই বিশাল স্থাপত্য ধরে রাখার সামর্থ্য নেই।  ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ