নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: মেদিনীপুরের বজরং ব্যায়ামাগারের উদ্যোগে রামনবমী উপলক্ষ্যে বিশেষ শোভাযাত্রার প্রস্তুতি চলছে। বুধবার এই শোভাযাত্রায় প্রায় ১০হাজার মানুষ অংশ নেবেন। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন ধরনের বাজনা থাকবে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: মেদিনীপুরের বজরং ব্যায়ামাগারের উদ্যোগে রামনবমী উপলক্ষ্যে বিশেষ শোভাযাত্রার প্রস্তুতি চলছে। বুধবার এই শোভাযাত্রায় প্রায় ১০হাজার মানুষ অংশ নেবেন। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন ধরনের বাজনা থাকবে।
বুধবার বিকেলে খাপ্রেলবাজারে ক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রা শুরু হবে। এরপর সিপাহীবাজার, এলআইসি মোড়, পঞ্চুর চক, বটতলা চক, নিমতলা চক হয়ে স্কুলবাজারে শোভাযাত্রা পৌঁছবে। সেখান থেকে শোভাযাত্রা মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানা, গোলকুয়া চক হয়ে ফের ক্লাব প্রাঙ্গণে ফিরে আসবে। বজরং ব্যায়ামাগারের সদস্যরা জানান, এটি জেলার অন্যতম বড় শোভাযাত্রা। জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এতে অংশ নেন।
বজরং ব্যায়ামাগার কমিটির সম্পাদক প্রেমজিৎ গোপ ও সভাপতি শ্যামল গোপ বলেন, শোভাযাত্রায় ব্যাপক ভিড় হবে বলে আমরা আশাবাদী। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। সবাইকে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সৌমেন খাঁ, পীযূষকান্তি পাল জানান, সবার সহযোগিতা ছাড়া এত বড় শোভাযাত্রা আয়োজন করা সম্ভব নয়।
অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া সংগঠন মেদিনীপুরের বজরং ব্যায়ামাগার। বিগত ৯০বছর ধরে শরীরচর্চা ও খেলাধুলার ক্ষেত্রে এই সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। প্রায় ২০০ বছর আগে উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে এই ব্যায়ামাগার প্রতিষ্ঠিত হয়। সেসময় বিহারের কিছু মানুষ মেদিনীপুর শহরের তৎকালীন কর্পোরেল বাজার(বর্তমানে খাপ্রেল বাজার) এলাকায় বসতি স্থাপন করেন। তাঁরা বজরংবলীর মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁদের উদ্যোগেই ১৯৩৬সালে বজরং ব্যায়ামাগার গড়ে ওঠে। সেখানে লাঠিখেলা, কুস্তির আখড়া বসত। সেইসঙ্গে শরীরচর্চা, খেলাধুলার আড়ালে ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের প্রস্তুতি চলতে থাকে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা নানাধরনের খেলাধুলার বিকাশে মনোযোগী হন। রক্তদান, শীতবস্ত্র বিলি, বৃক্ষরোপণ, স্বাস্থ্যশিবিরের মতো নানা সমাজসেবামূলক কর্মসূচি হতে থাকে। ফুটবল, ক্রিকেট, দৌড়, কুস্তি সহ নানা ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানের ক্রীড়াবিদরা সাফল্য পান। একটা সময় বজরং ব্যায়ামাগারের দাপুটে ক্রিকেট টিম ছিল।প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য প্রসেনজিৎকুমার সাহা, তপনকুমার সাহা বলেন, নিষ্ঠা ও ভক্তির সঙ্গে রামনবমী উদ্যাপন করা হয়েছে। সারাবছর নানা কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা মানুষের পাশে দাঁড়াই। আশা করছি, এবার শোভাযাত্রায় রেকর্ড ভিড় হবে।-নিজস্ব চিত্র