সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: দশমীতে কাঠামো পুজোর মধ্যে দিয়ে শুরু হয়ে গেল নবদ্বীপের ঐতিহ্যপূর্ণ রাসের প্রস্তুতি। বুধবার বেশ কিছু বারোয়ারি পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা চিরাচরিত প্রথা মেনে প্রতিমার কাঠামো পুজো করেন। নবদ্বীপের ঐতিহ্যবাহী প্রায় তিনশো বছরের প্রাচীন আমপুলিয়া পাড়ার শবশিবা, ১১৬ বছরের প্রাচীন ফাঁসিতলার কৃষ্ণকালী মাতা, দক্ষিণবঙ্গ পাড়া সংগঠনী ক্লাবের মহিষমর্দিনী মাতা, তেঘরিপাড়া ষষ্ঠীতলার নবদুর্গা মাতা, তেঘরিপাড়া বাজার বেলতলা চণ্ডীমাতা, অভয়া মা তলার মহিষমর্দিনী মাতা সহ বেশকিছু প্রতিমার এদিন কাঠামো পুজো হয়েছে। কাঠামোগুলি ফুল মালা, মোমবাতি ও ধুপ দিয়ে সাজানো হয়। দেবীর ফটো সামনে রেখে আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা হয় চত্বর। তারপর পবিত্র বেদমন্ত্র উচ্চারণের মধ্যে দিয়ে নিষ্ঠা সহকারে এই কাঠামো পুজো চলে। কাঠামো পুজোর পর থেকেই মৃন্ময়ী মূর্তি গড়ার কাজ শুরু হয়ে যায়। নবদ্বীপ কেন্দ্রীয় রাস উৎসব কমিটির কার্যকরী সভাপতি আইনজীবী দিলীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, বৈষ্ণবতীর্থ নবদ্বীপের ঐতিহ্যপূর্ণ রাস উৎসব ঘিরে বৈষ্ণব, শাক্ত ও শৈব মতে প্রায় সাড়ে চারশো দেবদেবীর পুজো হয়। যা অন্য কোথাও দেখা যায় না। এই উৎসবের আকর্ষণেই দেশ-বিদেশ থেকে মানুষ নবদ্বীপে আসেন। তবে বেশ কয়েক বছর ধরে নির্দিষ্ট পথে সীমিত সংখ্যক সদস্যের অংশগ্রহণে মা পোড়ামার মন্দিরে নবমী পুজোর ব্যবস্থা হয়েছে। ফলে পুজো ঘিরে বিশৃঙ্খলা অনেকটাই কমেছিল। কিন্তু এবছর কয়েকটি বারোয়ারি ফের পুরানো পদ্ধতিতে নবমী পুজো করতে চাইছে। এতে আবারও বিশৃঙ্খলা তৈরির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই বিগত বছরের মতো ঢাকঢোল সহ যে কোনো বারোয়ারির অনধিক ৫ সদস্য নবমী পুজো দিতে আসুক এই কাম্য।
আর অত্যধিক প্রতিমার কারণে সন্ধ্যায় শুরু হওয়া বিসর্জনের শোভাযাত্রা শেষ হতে পরের দিন সকাল হয়ে যায়। সমস্যা সমাধানে পূর্বে দু’দিন ধরে শোভাযাত্রা ও বিসর্জনের পথ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হলেও তা কার্যকর হয়নি। নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।
উল্লেখ্য, আগামী ২৪ নভেম্বর মঙ্গলবার নবদ্বীপের ঐতিহ্যপূর্ণ শাক্ত ও বৈষ্ণবদের মিলন উৎসব রাসযাত্রা। বিজয়া দশমীর পাশাপাশি কোজাগরি লক্ষ্মীপুজো ও ভাইফোঁটার দিনও নবদ্বীপের বিভিন্ন বারোয়ারির কর্মকর্তারা কাঠামো পুজো সারেন।



