নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উৎসব মিটলেই বাজবে পুরভোটের দামামা। রাজনৈতিক দলগুলি পুরোদমে মাঠে নেমে পড়বে। এরমাঝেই পুরভোটের প্রস্তুতি শুরু করে দিল লালবাজার। যাতে কলকাতায় পুরভোটকে কেন্দ্র করে কোনো অশান্তি বা গুলি চালানোর মতো ঘটনা না ঘটে। কোন এলাকা কতটা স্পর্শকাতর, কোন কোন জায়গায় দুষ্কৃতীদের দাপট রয়েছে, সেই তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। যাতে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করা যায়।
সব কিছু ঠিকঠাক চললে ডিসেম্বর মাসে হতে পারে কলকাতার ভোট। তার আগেই রাজনৈতিক দলগুলি মিটিং-মিছিল শুরু করে দেবে। দীপাবলি মিটলেই নির্বাচন সংক্রান্ত নোটিফিকেশন জারি হতে পারে বলে মনে করছেন পুলিশকর্তারা। তারপরেই জোরকদমে শুরু হবে প্রচার। এবার নির্বাচন নিয়ে বাড়তি সতর্ক লালবাজার। কারণ বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের এটা প্রথম পুর নির্বাচন। কলকাতা পুলিশের শীর্ষস্তর ও গোয়েন্দা বিভাগ থেকে সমস্ত থানায় নির্দেশ গিয়েছে, পুরভোটের প্রস্তুতিতে যেন সামান্যতম ফাঁক না থাকে। এরজন্য আগে থেকে পরিকল্পনা করতে হবে। তাই গত পুরভোটে যে সব এলাকায় গোলমাল হয়েছে, তার তালিকা তৈরি হচ্ছে। ওই অশান্তিতে কে বা কারা মদত দিয়েছিল, কোন দলের সমর্থক ছিল, তারা তখন গ্রেপ্তার হয়েছিল কি না, জামিন কবে পেয়েছিল— এই সংক্রান্ত তথ্যপঞ্জি তৈরি করছেন অফিসাররা। গোলমালে অভিযুক্ত দুষ্কৃতীদের তালিকাও তৈরি হচ্ছে। তার ভিত্তিতে প্রয়োজনে আগাম সতর্কতামূলক গ্রেপ্তার করা হতে পারে সেইসব দুষ্কৃতীদের। গোলমাল এড়াতেই এই পদক্ষেপ।
একইসঙ্গে পুর নির্বাচনে গোলমাল, ভোটারদের ভয় দেখানোর ঘটনায় অভিযুক্তরা মমতা তৃণমূলের কোন কোন নেতার ঘনিষ্ঠ, তা নিয়েও খোঁজখবর চালাচ্ছে পুলিশ। গোয়েন্দারা আশঙ্কা করছেন, এই দুষ্কৃতীদের দিয়ে গোলমাল পাকাতে পারে পূর্বতন শাসকদল। পুরভোটের আগে তারা যাতে ভোটারদের ভয় দেখাতে না পারে, তারজন্যই এই বিশেষ পরিকল্পনা বলে জানা গিয়েছে। ভোটের আগে শুরু হবে ধরপাকড়। পাশাপাশি কোন কোন এলাকা স্পর্শকাতর, সেই তালিকাও তৈরি করছেন গোয়েন্দারা। এক কথায়, ভোট শান্তিপূর্ণ করানোই পুলিশের টার্গেট।



