নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ঐতিহ্যের জগদ্ধাত্রী পুজো নিয়ে সরগরম হয়ে উঠতে শুরু করেছে চন্দননগর। ইতিমধ্যেই যাবতীয় পুজো কমিটির খুঁটিপুজো সারা হয়ে গিয়েছে। কোথাও কোথাও প্রতিমার মাটির পরত জমাট হয়ে উঠেছে। মণ্ডপসজ্জার আয়োজনও তুঙ্গে। পালপাড়ার রাস্তার ধারে বড়ো আকারের আলোকসজ্জার কাঠামো মাথা তুলতে শুরু করেছে। পুজো উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি পুলিশ-প্রশাসন-জগদ্ধাত্রী পুজোর কেন্দ্রীয় কমিটিও ময়দানে নেমে পড়েছে। পুজো নির্বিঘ্নে পরিচালনা করা এবং বিশ্বখ্যাত শোভাযাত্রার আয়োজন নিয়ে পুলিশ কর্তারা বিভিন্ন মহলের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। হৈমন্তিকাকে স্বাগত জানাতে নাগরিক মহল্লাতেও শুরু হয়েছে প্রস্তুতি।
তবে বহুবছর পর এবারের পুজোর আয়োজনে চ্যালেঞ্জও আছে। ১৫ নভেম্বর জগদ্ধাত্রী পুজোর ষষ্ঠী আর ১৯ নভেম্বর আলোকময় শোভাযাত্রা। ওই সময়ে আবহাওয়ার কিছু গোলযোগ থাকতে পারে, সেই আশঙ্কা ইতিমধ্যেই পুজো উদ্যোক্তাদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে। সঙ্গে কলকাতার চোরবাগান কাণ্ডের পর পুলিশ-প্রশাসন কতটা বিধিনিষেধের বাড়াবাড়ি করবে তা নিয়ে অন্তহীন চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো বাংলার খ্যাতনামা উৎসব। দেশ-বিদেশ থেকে উৎসাহীরা এসে ওই সময় চন্দননগরে ভিড় করেন। আবহাওয়া বাধ না সাধলে এবারও ব্যাপক ভিড় হবে বলে উদ্যোক্তাদের বড়ো অংশের দাবি। ফলে ভিড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ সামাল দেওয়াই এবারের জগদ্ধাত্রী পুজোর মুখ্য চ্যালেঞ্জ। চন্দননগর কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভজিৎ সাউ বলেন, পুজোর আমেজ ইতিমধ্যেই চন্দননগরে ছড়িয়ে পড়েছে। উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ফলে একটা সাজো সাজো রব এই সময় চন্দননগরে অনুভব করা যাবে। পুলিশ ও প্রশাসন, পুজোর আয়োজন করা ভিড় সামাল দেওয়া এবং শোভাযাত্রার জন্য যাবতীয় পরিকল্পনা সুষ্ঠুভাবে করছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক চন্দনগরের এক প্রবীণ পুজো উদ্যোক্তা বলেন, ভিড় চন্দননগরের কাছে বড়ো সমস্যা নয়। প্রত্যেক বারোয়ারির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল আছে। যাঁরা বহু বছর ধরে ভিড় সামলে দক্ষ হয়ে উঠেছেন। চন্দননগরে ভিড় হবে তা ধরেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়। চন্দননগর কমিশনারেটের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ঐতিহ্যের পুজো, মানুষের আবেগ, এসবকে মর্যাদা দিয়েই পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।



