নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত খিদিরপুরের অরফ্যানগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে বৈঠক কলকাতা পুরসভার। মঙ্গলবার দু’পক্ষের আলোচনা হয়। উপস্থিত ছিলেন পুরসভার ৯ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সন দেবলীনা বিশ্বাস এবং পুরসভার বাজার এবং সার্ভেয়ার বিভাগের আধিকারিকরা। বাজার সমিতির হাতে ফর্ম তুলে দেয় পুরসভা। সে ফর্মে ব্যবসায়ীরা নিজের নাম, ঠিকানা, স্টল নম্বর ইত্যাদি যাবতীয় তথ্যপূরণ করে পুরসভাকে জমা দেবেন। ঠিক হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বাজার চত্বরে শিবির করে আবেদনপত্র জমা নেওয়া হবে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দমকলের বিলম্বে আসা এবং অন্যান্য গাফিলতি নিয়ে দোকানদাররা অভিযোগ তুলেছিলেন। সে অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। তিনি মঙ্গলবার বিধানসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে জানান, দমকলের গাফিলতির অভিযোগ একেবারেই ঠিক নয়। দমকলকর্মীরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে কাজ করেছেন। দু’টো বেজে পাঁচ মিনিটে ফোন আসে। তখনই গাড়ি রওনা দেয়। তিনি জানান, প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী খিদিরপুরে আগুনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সংখ্যা প্রায় ৭০০। এর পাশাপাশি মন্ত্রী জানান, পুজোর আগে রাজ্যে আরও ২৫টি দমকলকেন্দ্র তৈরির কাজ শুরু হবে। একটি নবান্নের সামনে তৈরি হবে।
এদিন বরো অফিসে ক্ষতিগ্রস্ত বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির কয়েকজনকে ডাকা হয়েছিল। তাঁদের হাতে ২০০টি আবেদনপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে নয়া মার্কেট বানানো থেকে শুরু করে অস্থায়ী বাজার তৈরির বিষয়ে প্রাথমিকভাবে আলোচনা হয়েছে। মূলত অরফ্যানগঞ্জ বাজার নিয়ে সার্ভে করার প্রস্তুতি শুরু করেছে পুরসভা। দেবলীনা বিশ্বাস বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এদিন ফরেন্সিক দল নমুনা সংগ্রহ করেছে। পুরসভা একটি ফর্ম তৈরি করে দিয়েছে। পূরণের পর তাঁদের কাছ থেকে সেগুলি জমা নেওয়া হবে। কতগুলি দোকান পুড়েছে, তা সমীক্ষা সম্পূর্ণ না হলে বলা সম্ভব নয়। সব নথি খতিয়ে দেখা হবে। মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীদের সমস্তরকম সহযোগিতা করা হবে। ওঁদের যাতে ভালো হয় সে চেষ্টাই করছে পুরসভা।’
সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে অন্যত্র অস্থায়ী দোকান বানানোর বিষয়ে নিজেদের আপত্তির কথা জানান দোকানদারদের একাংশ। তাঁদের দাবি, তিন থেকে চারটি ধাপে নতুন দোকান বানিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন দেওয়া হোক। তবে পুরসভা এই দাবির বিষয়ে আপত্তি তুলেছে। এক পুরকর্তা বলেন, তেমন হলে সবশেষে যাঁর নাম আসবে তার দোকান বানাতে তো কয়েক বছর লেগে যাবে। ফলে সেটা সম্ভব নয়। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, অনেক দোকানদার আগেই পুরসভাকে কাগজ জমা করেছিল। সেই অনুযায়ী ট্যাক্সের বিল দেওয়া হয়। আবার অনেকে দেননি। কেউ কেউ বলছেন, আগুনে সব পুড়ে গিয়েছে। তাই সকলের থেকে আধার কার্ড নেওয়া হবে। যখন জেলাশাসকের তরফ থেকে এই মার্কেট পুরসভার হাতে এসেছিল, তখন সমীক্ষা হয়েছিল। ফলে কার কোথায় কত মাপের দোকান রয়েছে সে সম্পর্কিত তথ্য পুরসভার কাছে আছে। পাশাপাশি জেলাশাসকের কাছ থেকে পাওয়া সে সময়ের নথিপত্রও আছে। ফলে সবকিছু খতিয়ে দেখে দোকানদারদের তালিকা চুড়ান্ত হবে।