বড়োপর্দায় মুক্তি পাচ্ছে প্রীতি জিন্টা অভিনীত ‘ভাইব’। ছবির লেখক, পরিচালক, অভিনেতা এবং প্রযোজক কুণাল খেমু। কয়েকদিন আগেই ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’ ছবিতে দেখা গিয়েছিল প্রীতিকে। ‘ভাইব’ ছবিটি করার কারণ কী? প্রীতি বলেন, ‘কোনো ছবির গল্প স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভালো লাগলেই আমি সেটা করতে রাজি হই। এর আগে আমি খুবই সিরিয়াস একটি ছবিতে কাজ করেছি। তাই এবার এমন কিছু করতে চেয়েছিলাম, যেটা মজার।’ কুণালের প্রসঙ্গে প্রীতির জানান, ‘আমি জানতাম কুণাল খুব ভালো অভিনেতা। কিন্তু সে যে চিত্রনাট্যও লিখেছে, সেটা জেনে অবাক হয়েছিলাম’।
নয়ের দশকের শেষ দিকে অভিনয়জীবন শুরু করেছিলেন প্রীতি। দীর্ঘ বিরতির পর কাজে ফিরে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে বেশ কিছু পরিবর্তন দেখেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘আমি যখন কেরিয়ার শুরু করি, তখন সিনেমার জগৎ নতুন একটি পর্যায়ে প্রবেশ করছিল। আমি যে ছবিগুলোতে কাজ করেছি, সেগুলোতেও সেই পরিবর্তন দেখা যাচ্ছিল। তখন থেকেই আমাকে প্রথম দিনেই পুরো চিত্রনাট্য দেওয়া হতো। তবে সেই সময় ছবির ধরন ছিল ভিন্ন।’ বর্তমান সময়ে ছবি তৈরি করাকে আগের তুলনায় কঠিন মনে করেন প্রীতি। তিনি বলেন, ‘এখন ওটিটি এসেছে, বিভিন্ন ক্রীড়া লিগ এসেছে। আন্তর্জাতিক ছবির প্রতিও দর্শকের আগ্রহ বেড়েছে। আগে আন্তর্জাতিক সিনেমা সম্পর্কে মানুষের এতটা ধারণা ছিল না। এখন সেই জায়গাটা অনেক বদলে গিয়েছে।’ অভিনেত্রীর সংযোজন, ‘যাঁরা আমার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেননি, তাঁদের কথাও মনে রয়েছে আমার। তবে সেসব পিছনে ফেলে এসেছি। এখন বরং অন্যদের সাহায্য করার চেষ্টা করি। কারণ এই ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন হিসেবে আসা খুব কঠিন। সমাজমাধ্যমের কারণে বিষয়টি এখন আরও কঠিন হয়েছে।’
একই সঙ্গে ক্রিকেট দল পরিচালনা, মাতৃত্ব এবং অভিনয় সবকিছু কীভাবে সামলান? প্রীতির উত্তর, ‘আমি একা নই, অনেক নারীই একসঙ্গে অনেক দায়িত্ব সামলান। আমি ভাগ্যবান যে আমার পাশে অনেক সাহায্য ও সুযোগ রয়েছে। বিভিন্ন কাজ করতে পারছি এবং সেগুলোর জন্য পারিশ্রমিকও পাচ্ছি।’ আড্ডার শেষবেলায় প্রীতির কন্ঠে অভিযোগের সুর। তিনি বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘কাজের সময় নিয়ে আমাকে দীপিকা পাড়ুকোনের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। এটা খুবই অন্যায়। মিডিয়া সবসময়ই নারীদের একে অপরের বিপরীতে দাঁড় করায়। আমার সন্তানরা বড়ো হয়েছে, আর দীপিকার শিশু এখনও ছোটো। তাই নারীদের একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করাবেন না। নারীদের জীবন এমনিতেই অনেক কঠিন।’
দেবারতি ভট্টাচার্য, মুম্বই