সিধি (মধ্যপ্রদেশ): বাড়ির সামনের রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ। গাড়ি তো দূরস্থান, মানুষজনও নিরাপদে চলাচল করতে পারে না। দীর্ঘদিনের এই বেহাল রাস্তা সারাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেন মধ্যপ্রদেশের সিধি জেলার লীলা সাহু। ট্যাগ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও। বিষয়টি জানাজানি হতেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে কার্যত ছুটে আসেন স্থানীয় বিজেপি সাংসদ রাজেশ মিশ্র। আশ্বাস দেন, বর্ষার পরই রাস্তা সারিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু, কোনও কাজই হয়নি। তারপর একবছর কেটে গিয়েছে। এখন লীলা অন্তঃসত্ত্বা। গ্রামের আরও বেশ কয়েকজন মহিলাও সন্তানসম্ভবা। রাতবিরেতে প্রসব বেদনা উঠলে এই বেহাল রাস্তায় কোনও গাড়িই ঢুকবে না। ফলে মা ও সন্তান উভয়েরই বিপদ হতে পারে। এই আশঙ্কায় এবার আর অনুরোধ নয়, সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন লীলা। বলেছেন, অবিলম্বে খাদ্দিখুর্দ থেকে গাঙ্গারি পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার রাস্তা সারাই করতে হবে। না হলে, সন্তানের জন্মের পর নবজাতককে নিয়েই দিল্লি যাবেন। সেখানে কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গাদকারির সঙ্গে দেখা করে বেহাল রাস্তার সারানোর দাবি জানাবেন। লীলার দাবির বিষয়টি লঘু করতে তৎপর স্থানীয় বিজেপি সাংসদ। রাজেশের সাফাই, আমাদের এখানে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা রয়েছে। কোনও চিন্তা করার দরকার নেই। ওই মহিলাদের সন্তানপ্রসবের দিনক্ষণ জানালে একসপ্তাহ আগেই হাসপাতালে পৌঁছে দেব। ডেলিভারির আগেই তুলে নিয়ে যাব। দরকার পড়লে প্লেন, হেলিকপ্টারও রয়েছে। এরপরই লীলার পোস্ট নিয়ে কটাক্ষও ছুড়েছেন গেরুয়া নেতা। তিনি বলেন, এখন অনেকেই সস্তার জনপ্রিয়তার জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করছেন। এভাবে বিষয়গুলিকে প্রকাশ্যে আনার দরকার কী? যদিও বেহাল রাস্তা কবে সারানো হবে, সেব্যাপারে কোনও আশ্বাস দিতে পারেননি তিনি। তাঁর যুক্তি বনদপ্তরের অনুমতি না মেলায় রাস্তা মেরামতির কাজ আটকে রয়েছে। তবে লীলার সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট যে বিজেপির আঁতে লেগেছে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী রাকেশ সিং। জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ কোনও পোস্ট করতেই পারে। তার মানে এই নয় যে, আমরা ডাম্পার বা সিমেন্ট কংক্রিট প্লান্ট নিয়ে সেখানে পৌঁছে যাব!



