Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নার্সিংহোমে বেডে শুয়ে রাইটার নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন প্রসূতি

নার্সিংহোমে বেডে শুয়ে রাইটার নিয়ে  উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন প্রসূতি
  • ১৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: অন্তঃসত্ত্বা হয়েও উচ্চ মাধ্যমিকের প্রস্তুতিতে খামতি রাখেননি। আর এবার সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের কয়েক ঘণ্টার পর নার্সিংহোমের বেডে শুয়ে রাইটার নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকের ইতিহাস পরীক্ষা দিলেন সাখিনা খাতুন। ছাত্রীর যাতে একটা বছর নষ্ট না হয়, সেজন্য মুহূর্তের মধ্যে বেসরকারি হাসপাতালে ওই ছাত্রীর পরীক্ষার ব্যবস্থা করে প্রশংসিত হলেন উচ্চ মাধ্যমিক কাউন্সিলের যুগ্ম কনভেনর অভিজিৎ নন্দন। 

Advertisement

সাখিনার বাড়ি মুরারইয়ের হরিশপুর গ্রামে। তিনি লাগোয়া মুর্শিদাবাদের সূতি থানার নয়াগ্রাম ইয়াকুব মণ্ডল হাইস্কুলের ছাত্রী। তাঁর সিট পড়েছে ওই থানারই হারোয়া হাইস্কুলে। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পরও তিনি সেন্টারে আসা যাওয়া করে পরীক্ষা দিয়ে আসছেন। কিন্তু বুধবার দুপুরে তাঁর প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়। পরিবারের সদস্যরা তড়িঘড়ি তাঁকে রামপুরহাটের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করেন। রাত ১১টা নাগাদ সিজারের মাধ্যমে তিনি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। 
নার্সিংহোম সূত্রে জানা গিয়েছে, জ্ঞান ফিরতেই সাখিনার চিন্তা শুরু হয়ে যায় পরীক্ষা নিয়ে। তাঁর ইচ্ছার কথা তিনি স্বামীকে জানান। এরপরই স্বামী সামিউদ্দিন শেখ স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। স্কুলের পক্ষ থেকে মুর্শিদাবাদ জেলার উচ্চ মাধ্যমিক কাউন্সিলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁরা উচ্চ মাধ্যমিক কাউন্সিলের বীরভূম জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক অভিজিৎবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
সেইমতো এদিন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রশ্ন ও উত্তরপত্র নিয়ে নার্সিংহোমে হাজির হন কাউন্সিলের প্রতিনিধিরা। পুলিস গার্ড দেওয়া হয়। এরপরই নার্সিংহোমের একটি কেবিনের বেডে কোনওরকমে  পরীক্ষা দিতে শুরু করেন ছাত্রী। কিন্তু প্রায় ৪৫ মিনিট পর তিনি অসুস্থতা বোধ করেন। তাঁর পক্ষে হেলান দিয়ে পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান সাখিনা। তিনি রাইটারের আবেদন জানান। মুহূর্তের মধ্যে সেই ব্যবস্থাও করেন অভিজিৎবাবু ও তাঁর টিম। সাখিনার মাসতুতো বোন রাফসানা পারভিনকে তাঁর রাইটার হিসাবে নিযুক্ত করে ফের পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয়। রাফসানা এবারই রামপুরহাটের জয়কৃষ্ণপুর হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। 
সাখিনার ইচ্ছেপূরণ হওয়ায় খুশি স্বামী। তিনি বলেন, বিয়ের পরও পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছে সাখিনা। সংসারের কাজ সামলে সময় পেলেই বই নিয়ে পড়তে বসে যেত। কাউন্সিল যেভাবে ওর পরীক্ষা ও রাইটারের ব্যবস্থা করেছে, তাতে সবাই খুবই খুশি। ও পাশ করলে আরও খুশি হব। 
সাখিনার ইচ্ছেশক্তি ও মনের জোরকে কুর্নিশ জানিয়েছেন অভিজিৎবাবু। তিনি বলেন, সিজার করার পরে জ্ঞান ফিরতেই ওই ছাত্রী পরীক্ষা দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করে। সেই মতো প্রশাসনিক স্তরে কথা বলে তাঁর পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছি।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ