নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পায়ে সংক্রমণ। আর সেই সংক্রমণের ফলে মৃত্যু হল আলিপুর চিড়িয়াখানার এক সিংহীর। সোমবার তার মৃত্যু হয়। চার বছর বয়সি ওই সিংহীর অস্বাভাবিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া আলিপুর পশুশালায়। সিংহীটি গর্ভবতী ছিল বলে জানিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনার পর মঙ্গলবার আলিপুর পশুশালা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, পশুটি অসুস্থ ছিল। কিন্তু তার দেখাশোনাতে গাফিলতি করেছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। সেই কারণেই মৃত্যু হয়েছে সিংহীর। এই অভিযোগ তুলে কর্তৃপক্ষকে ডেপুটেশন জমা দেন বিক্ষোভকারীরা।
২০২৪ সালে ওড়িশার নন্দনকানন থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল সিংহীকে। তার পায়ে সংক্রমণের ফলে লোম, চামড়া উঠে যাচ্ছিল। খাঁচাবন্দি করে চিকিৎসা চলছিল। রবিবার অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় তড়িঘড়ি অ্যাম্বুলেন্সে করে চিড়িয়াখানার উলটো দিকে থাকা পশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তাকে বাঁচানো যায়নি। ময়নাতদন্তের পর সোমবারই হাওড়ার গড়চুমুকে তার দেহ সৎকার করা হয়। ২০১৯ সালের পর আলিপুর চিড়িয়াখানায় আর কোনো সিংহ শাবক জন্ম নেয়নি। প্রায় ৭ বছর পর সিংহ শাবকের জন্মগ্রহণ করত। কিন্তু, তার আগেই সোমবার গর্ভবতী সিংহীর মৃত্যু হয়। আলিপুর পশুশালা জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এই ইস্যুতে কংগ্রেস নেতা আকিব গুলজারের নেতৃত্বে আলিপুর জুলজিক্যাল গার্ডেনে এক বিক্ষোভ কর্মসূচি সংগঠিত হয়। তিনি বলেন, ‘চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতি ও অব্যবস্থার কারণে একটি গর্ভবতী সিংহীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আমরা অবিলম্বে ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টরের পদত্যাগ দাবি করছি।’
এই ঘটনায় বনদপ্তরের তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। বরং এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ভিডিয়ো বার্তায় বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাও বলেন, ‘বিহারের বাল্মীকি জঙ্গলে একটি বাঘিনী ধরা পড়েছে। তাকে এয়ারলিফ্ট করে হাসিমারায় নিয়ে আসা হয়েছে। বাঘিনীর বয়স ৩ বছর। আগামী ২ অক্টোবর বক্সা টাইগার রিজার্ভে সেটি ছাড়া হবে। ওই দিন হাজির থাকতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।’