নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: অবশেষে প্রকাশ্যে ভুল স্বীকার করল প্রসাশন। পুরুলিয়া জেলা বই মেলায় ‘বাংলা ভাষা ছাড়া প্রাদেশিক কোনও ভাষায় অনুষ্ঠান করা যাবে না’ বলে যে ‘ফতোয়া’ জারি করেছিল প্রসাশন, তা যে ভুল হয়েছে তা প্রকাশ্যেই মেনে নিলেন আধিকারিকরা। জেলা প্রশাসনের তরফে জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক সিদ্ধার্থ চক্রবর্তী জানান, এই ভুল সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত। প্রশাসনেরও ব্যাখ্যা, পুরুলিয়ার মানভূম সংস্কৃতিকে কোনওভাবেই অপমানের উদ্দেশ্য তাঁদের নেই। বর্তমান রাজ্য সরকার পুরুলিয়ায় বসবাসকারী সমস্ত জাতির মানুষের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে তৎপর।
Advertisement
বইমেলা কমিটির প্রচারপত্রে ‘প্রাদেশিক ভাষায় কোনও অনুষ্ঠান করা যাবে না’ বলে ফতোয়ার প্রতিবাদে শুক্রবার ডেপুটেশন দেয় একাধিক সংগঠন। এরপর প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসে সংগঠনের কর্তারা। সংগঠনের দাবি, বইমেলা কর্তৃপক্ষ আলোচনায় ভুলের কথা স্বীকার করলেও প্রকাশ্যে তা বলতে কার্যত নারাজ। প্রকাশ্যে ভুল স্বীকারের দাবিতে শুরু হয় আন্দোলন, বিক্ষোভ। শুক্রবার বইমেলা কমিটির অফিসের সামনে অবস্থান শুরু করেন আদিবাসী ও কুড়মি সমাজের নেতাকর্মীরা। ভুল স্বীকার না করলে কমিটির অফিস খুলতে না দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা। আধিকারিকদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে-এই দাবিতে রবিবার দুপুর থেকে বইমেলা চত্বরে বিক্ষোভ শুরু করেন বিভিন্ন সংগঠনের লোকজন। সন্ধ্যার সময় তাঁরা একটি মিছিল করেন। বইমেলায় আগত সকলকে মেলা ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। এরপর বইমেলার প্রবেশদ্বারে তালা বন্ধ করে দেন তাঁরা। এর পরেই ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয় প্রশাসনের কর্তারা। ভুল স্বীকার করেন। তারপরেই বিক্ষোভ ওঠে। তবে ততক্ষণে বই মেলার ভিড় ফাঁকা হয়ে যায়।
ভারত জাকাত মাঝি পরগনা মহলের পুরুলিয়া তল্লাটের নেতা রাজেশ্বর টুডু বলেন, মানভূম কেবল বাঙালির নয়, আদিবাসী, সাঁওতাল কুড়মি, কোড়া থেকে শুরু করে সকল জন জাতির। বাংলার আগ্রাসন মানব না। আদিবাসী কুর্মি সমাজের মুখ্য উপদেষ্টা অজিতপ্রসাদ মাহাত বলেন, একদিকে বইমেলাতে প্রচার করা হচ্ছে ভাষার মাধ্যমে সম্প্রীতির মেলবন্ধন ঘটানো হবে। অন্যদিকে স্থানীয়দের ভাষা অবমাননা করা হচ্ছে।
তবে এই বিতর্ক ছাড়াও আরো একটি বিতর্ক শুরু হয়েছে বইমেলাকে ঘিরে। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক চলাকালীন শনিবার অনুষ্ঠান হয়। বিতর্কের মুখে পড়ে রবিবার অবশ্য অনুষ্ঠান বন্ধ ছিল।
ভারত জাকাত মাঝি পরগনা মহলের পুরুলিয়া তল্লাটের নেতা রাজেশ্বর টুডু বলেন, মানভূম কেবল বাঙালির নয়, আদিবাসী, সাঁওতাল কুড়মি, কোড়া থেকে শুরু করে সকল জন জাতির। বাংলার আগ্রাসন মানব না। আদিবাসী কুর্মি সমাজের মুখ্য উপদেষ্টা অজিতপ্রসাদ মাহাত বলেন, একদিকে বইমেলাতে প্রচার করা হচ্ছে ভাষার মাধ্যমে সম্প্রীতির মেলবন্ধন ঘটানো হবে। অন্যদিকে স্থানীয়দের ভাষা অবমাননা করা হচ্ছে।
তবে এই বিতর্ক ছাড়াও আরো একটি বিতর্ক শুরু হয়েছে বইমেলাকে ঘিরে। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক চলাকালীন শনিবার অনুষ্ঠান হয়। বিতর্কের মুখে পড়ে রবিবার অবশ্য অনুষ্ঠান বন্ধ ছিল।



