নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: পায়রাডাঙা পঞ্চায়েতেরজমি কেলেঙ্কারি নিয়ে আশ্চর্যজনকভাবে নীরব বাম-কংগ্রেস! শ্মশান তৈরির জন্য বাজারদরের চেয়ে পাঁচগুণ বেশি দামে জমি কেনে রানাঘাট-১ ব্লকের পায়রাডাঙা পঞ্চায়েত। তা নিয়ে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়। পঞ্চায়েতটি তৃণমূল পরিচালিত। অথচ, প্রতিবাদের টুঁ শব্দও করেনি রাজ্যের দুই বিরোধী দল। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। অনেকেই বলছেন, পঞ্চায়েতে জোটধর্মের শর্ত মেনেই সম্ভবত মুখ খুলতে চাইছে না সিপিএম ও কংগ্রেস। কারণ, তারাও কেলেঙ্কারির দায় এড়াতে পারে না। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে পায়রাডাঙা পঞ্চায়েতের ৩০টির মধ্যে তৃণমূল ১৩টি, কংগ্রেস ৪টি, সিপিএম ৯টি এবং বিজেপি ৪টি সংসদে জয়ী হয়। বোর্ড গঠনের ম্যাজিক ফিগার কোনও দলেরই ছিল না। বাধ্য হয়ে তৃণমূলকে অন্যান্য দলের সমর্থন নিতে হয়। গঠিত হয় জগাখিচুড়ি বোর্ড। লটারির মাধ্যমে প্রধান পদ পান তৃণমূলের ফাল্গুনী বিশ্বাস। উপপ্রধান হন কংগ্রেসের অনুপকুমার ঘোষ। সম্প্রতি অনুপবাবুর মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যেই শ্মশান তৈরির জন্য জমি কেনার প্রস্তুতি নেয় পঞ্চায়েত। তৃণমূলের নির্বাচিত সদস্যদের অন্ধকারে রেখে দুই কংগ্রেস প্রতিনিধি এবং দু’জন সিপিএম প্রতিনিধিকে নিয়ে জমি চিহ্নিত করে ফেলেন প্রধান। জমিটি ওই পঞ্চায়েতেরই শিল্প সঞ্চালক তথা পঞ্চায়েত সমিতির কংগ্রেস সদস্য বিজয়েন্দু বিশ্বাসের। তাঁর ৭০.৫ শতক জমি ৩৭ লক্ষ টাকায় কেনে পঞ্চায়েত। তা নিয়েই বিতর্কের সূত্রপাত। স্থানীয় মানুষের দাবি, পাঁচগুণ বেশি দাম দিয়ে জমিটি কেনা হয়েছে। সেইসঙ্গে তাঁদের অভিযোগ, এরমধ্যে দুর্নীতি রয়েছে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেস কিংবা সিপিএম মুখ খুলছে না। পাঁচগুণ বেশি পঞ্চায়েতকে জমি বিক্রির মধ্যে বিজয়েন্দুর দোষ দেখছে না কংগ্রেস। জেলা কংগ্রেস সভাপতি অসীম সাহা বলেন, ‘একজন ব্যক্তি বাজারদর অনুযায়ী জমি পঞ্চায়েতকে বিক্রি করেছেন। এতে দোষের কিছু নেই।’ সিপিএমের রানাঘাট-১ এরিয়া কমিটির সম্পাদক তারক দাস বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা খোঁজখবর করা শুরু করেছি। পাঁচগুণ বেশি দামে জমি বিক্রি আমরা সমর্থন করি না।’



