নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: পিয়ারডাঙা বড় দরবার শরিফে ‘ইসালে সওয়াব’ ও মেলা ঘিরে উন্মাদনা তুঙ্গে। চন্দ্রকোণা-১ ব্লকের পিয়ারডাঙা বড় দরবার শরিফে অন্যান্য বছরের ন্যায় এবছরও ‘ইসালে সওয়াব’ বা জলসায় বিপুল ভক্ত সমাগম হয়। মেলা চলবে ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ মেলায় আসছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, প্রায় চারশো বছরের প্রাচীন বড় দরবার শরিফ আধ্যাত্মিকতার তীর্থক্ষেত্রে। মানব সেবায় আর সিলসিলার ধারাবাহিকতায় ইসালে সওয়াব বা জলসা অনুষ্ঠিত হয়ে চলেছে। শত শত বছরের সিলসিলার কার্যকলাপে আজও ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলেছেন বর্তমান সাজ্জাদানশীন আলহাজ্ব সৈয়দ আবু নাসার। এই মেলা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব সৈয়দ আবু নাসার বলেন, মেলায় প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই এই ঐতিহ্য বজায় রয়েছে। সাধারণ মানুষকে মেলায় আসার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে হযরত সৈয়দ শাহ ঈশা (রাহঃ) ১২তম বংশধর আলহাজ্ব সৈয়দ আবু নাসার। তিনি বড় দরবারের সাজ্জাদানশীন। আবু নাসার প্রায় ৩০ বছর আগে পিতা সৈয়দ শাহ আব্দুল মান্নানের (রাহঃ) হাত ধরেই সিলসিলায় হাতেখড়ি করেন। তাই শত শত বছরের সিলসিলার কার্যকলাপের ধারাবাহিকতা আজও বর্তমান। সমস্ত রীতিনীতি বজায় রেখে চলেছেন বর্তমান সাজ্জাদানশীন আলহাজ্ব সৈয়দ আবু নাসার। এখন তিনি পরম্পরা অনুযায়ী শিষ্যত্ব প্রদান করেন। পাশাপাশি মানব সেবায় সর্বদাই নিজেকে নিয়োজিত করে রাখেন। দরবারে আসা হাজার হাজার শিষ্যের মনস্কামনা পূর্ণ করার জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। একইসঙ্গে নিজেকে সারা বছর ধরে মানব সেবায় নিয়োজিত রাখেন। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজ করে থাকেন কমিটির সদস্যরা। এই মেলা কমিটির সদস্যদের উদ্যোগে বিভিন্ন সময়ে বস্ত্রদান কর্মসূচি পালন করা হয়। এমনকী করোনা পরিস্থিতির সময়ও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল মেলা কমিটির সদস্যরা। করোনা কালে খাবার বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়। মাস্ক বিতরণ করা হয়েছিল বিভিন্ন এলাকায়। শুধু মেদিনীপুর জেলা নয়, পার্শ্ববতী জেলার মানুষকেও সহযোগিতা করা হয়। sমেলা কমিটির উপদেষ্টা শেখ আব্দুল হামিদ বলেন, মানুষের পাশে থাকা প্রধান কর্তব্য। তাই সর্বদা মেলা কমিটির সদস্যরা মানুষের পাশে থাকেন। রাজ্যের কোথাও মানুষ সমস্যায় পড়লে মেলা কমিটির সদস্যরা এগিয়ে যান। করোনা কালে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল প্রত্যেকে। সকলের সহযোগিতা ছাড়া সমাজ কল্যাণমূলক কাজ করা সম্ভব নয়। মেলা কমিটির উপদেষ্টা সৈয়দ শামীম বলেন, জলসার সময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান (ইসলামিক গজল), ক্যুইজ প্রতিযোগিতা ও শিশুদের শিক্ষামূলক বই পুরস্কৃত করা হচ্ছে। এবছর রেকর্ড ভিড় হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হচ্ছেন। এই জলসাতে পীরজাদা আলহাজ্ব সৈয়দ আবু নাসার সাহেব মানবজাতির উদ্দেশ্যে কল্যাণময় আর বিশ্বশান্তির জন্য করুণাময় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।



