Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রচীন পারিবারিক ও বারোয়ারি জগদ্ধাত্রী পুজো ঘিরে উন্মাদনা

প্রচীন পারিবারিক ও বারোয়ারি জগদ্ধাত্রী পুজো ঘিরে উন্মাদনা
  • ৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, মানকর: গলসি-১ ব্লকে একাধিক প্রাচীন পারিবারিক জগদ্ধাত্রী পুজো হয়। পারিবারিক এই পুজোয় রীতিনীতি মধ্যেও রয়েছে বৈচিত্র্য। যার মধ্যে অন্যতম গলসির চাকতেঁতুল গ্রামের নায়ক পরিবার, মানকরের চট্টোপাধ্যায় পরিবার। এছাড়াও বুদবুদের বিবেকানন্দ ক্লাবের জগদ্ধাত্রী পুজো ঘিরে উন্মাদনা চরমে।   
Advertisement
২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে জগদ্ধাত্রী পুজো হচ্ছে গলসির চাকতেঁতুল গ্রামে। নায়ক পরিবার এই পুজোর আয়োজন করেন। পরিবারের সদস্য বিনয়কৃষ্ণ নায়ক বলেন, পূর্বপুরুষ পূর্ণচন্দ্র নায়কের সময় দুর্গাপুজো হতো। কিন্তু বলির সময় একবার অঘটন ঘটে। মায়ের অঙ্গহানি হয়। সেই সময় দেবীমূর্তি বরাবরের জন্য নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়। পূর্ণচন্দ্র নায়কের পুত্র গিরিশচন্দ্র নায়কের আমলে আর কোনও পুজো হয়নি। পরবর্তীকালে বিশ্বনাথ নায়কের সময় আবার পুজো শুরু হয়। দুর্গার পরিবর্তে তখন থেকেই জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রচলন হয়। কথিত আছে, মাতৃসাধক বিশ্বনাথ নায়ক স্বপ্নাদেশ পেয়ে জগদ্ধাত্রী পুজো শুরু করেন। সেই সময় মৃন্ময়ী মূর্তিতে পুজো হত। বর্তমানে পাষাণ মূর্তি হয়েছে। সারা বছর মা মন্দিরেই থাকেন। নিত্যসেবা হয়। এখানে পশুবলি হয় না। আঁখ বলি হয়। পরিবারের সদস্য সুকান্ত মজুমদার জানান, পুজো উপলক্ষ্যে প্রচুর ভক্ত সমাগম হয় ও নরনারায়ণ সেবার ব্যবস্থা করা হয়।
অন্যদিকে, মানকরে চট্টোপাধ্যায় পরিবারে জগদ্ধাত্রী পুজোয় দেবীকে মাংস ভাজা নিবেদন করা হয়। শতাব্দী প্রাচীন চট্টোপাধ্যায় পরিবারের পুজো দেখতে ভিড় জমান এলাকার বাসিন্দারা। চট্টোপাধ্যায় পরিবার সূত্রে জানা যায়, বর্ধমানের কাঁঠালপাড়ায় ছিল তাঁদের আদি নিবাস। সেখানেই শুরু হয় পুজো। পরে চট্টোপাধ্যায় পরিবার মানকরে বসতি স্থাপন করে এখানেও পুজোর প্রচলন করে। পরিবারের সদস্য সত্যেন চট্টোপাধ্যায় বলেন, প্রথমে তালপাতার ছাউনিতে পুজো হতো। বর্তমানে মন্দির সংস্কার হয়েছে। পুজোয় রয়েছে একাধিক বিশেষ রীতি। 
পরিবারের সদস্য অলোকপতি চট্টোপাধ্যায় জানান, দেবীকে মাছ ও মাংসভাজা নিবেদন করা হয়। ভাইফোঁটার দিন মাটি দিয়ে প্রতিমা গড়া শুরু হয়। পুজোর পরদিনই হয় বিসর্জন। দেবীর মূর্তি বংশ পরম্পরায় তৈরি করছে পাল পরিবার। এবারে মূর্তির কারিগর অনাথ পাল। তিনি বলেন, এখানে মূর্তির বিশেষত্ব হচ্ছে জগদ্ধাত্রীর রং হতে হবে সূর্য উদয়ের বর্ণ। প্রাচীন ধারা অনুসরণ করেই মূর্তি তৈরি করা হয়। পারিবারিক পুজোর পাশাপাশি বুদবুদের বিবেকানন্দ ক্লাব ৪২ বছর ধরে জগদ্ধাত্রী পুজোর আয়োজন করে চলেছে। কৃষ্ণনগরের কাঠের পুতুল দিয়ে এবারে তৈরি হয়েছে মণ্ডপ। ক্লাব কমিটির তরফে নীলরতন দেবনাথ, শুভজিৎ চৌধুরী বলেন, কৃষ্ণনগরের কাঠের পুতুল এক ডাকে সবাই চেনেন। পুতুল দিয়ে এবারে মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে। প্রতিদিনই সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পুজোর দিন ভোগ বিতরণ করা হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ