সংবাদদাতা, সিউড়ি: প্রাচীন মুদ্রা ও প্রত্নবস্তু বিক্রির টোপ দিয়ে আর্থিক প্রতারণা চক্র ফের মাথাচাড়া দিয়েছে। পুলিসি ধরপাকড়ের কারণে সাময়িক বন্ধ ছিল এই কারবারিদের সক্রিয়তা। তবে প্রতারণা চক্রের সক্রিয় হওয়ার খবর পেতেই সাঁইথিয়া থানা ফের নজরদারি শুরু করেছে। বীরভূমের লাভপুর থানার হাতিয়া গ্রাম এই চক্রের মূল কেন্দ্র বলে আগেই চিহ্নিত হয়েছিল। কিন্তু এখন প্রতারকরা দুবরাজপুর, পাণ্ডবেশ্বর, বোলপুর, রাজনগর থেকে অপারেট করছে বলে জানতে পেরেছে পুলিস। কয়েকদিন আগে বোলপুর থেকে এমনই দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস।
Advertisement
উল্লেখ্য, রাজু মিস্ত্রি নাম করে বিভিন্ন মানুষের কাছে ফোন করা হয় এই প্রতারকদের পক্ষ থেকে। সেখানে সাধারণ মানুষকে বিপুল অর্থ রোজগারের টোপ দেওয়া হয়। মাটির তলা থেকে উদ্ধার হওয়া পুরনো সোনার কয়েন, প্রাচীন মূর্তি, পুরনো দিনের ভারতীয় কয়েন ইত্যাদির বিনিময়ে বিপুল অর্থ রোজগারের টোপ দেওয়া হয়। সেই ফাঁদে পা দিয়ে বহু মানুষ লক্ষাধিক টাকা ইতিমধ্যেই হারিয়েছেন। আগে এই প্রতারকরা লাভপুর থেকে আহমদপুর, কল্যাণপুর, সাঁইথিয়া এলাকা থেকে এই কারবার চালাত। পুলিস প্রতারক চক্রের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১৩-১৪ জনকে গ্রেপ্তারও করেছিল। উদ্ধার হয়েছিল বহু অর্থ। এই প্রতারণার ফাঁদে পা না দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে শুরু করেছিল সাঁইথিয়া থানার পুলিস। এখনও সাঁইথিয়া স্টেশনে কেউ নেমে হাতিয়া গ্রামের উদ্দেশ্যে যেতে চাইলেই টোটো ও অটো চালকরা সেই ব্যক্তিকে পুলিসের হাতে তুলে দেন। এমন একাধিক ঘটনা ঘটেছে। প্রায় বছরখানেক এই চক্র গা ঢাকা দিয়ে থাকার পর ফের সক্রিয় হয়েছে বলে পুলিস সূত্রে জানা যাচ্ছে। এখন তারা সাঁইথিয়ার দিকে নয়, দুবরাজপুর থেকে পাণ্ডবেশ্বর যাতায়াতের রাস্তায় অথবা বোলপুর, রাজনগর সহ অন্যান্য দিকে প্রতারণার জাল বিছিয়েছে বলে জানতে পেরেছে পুলিস। যদিও লাভপুর থানার এই হাতিয়া গ্রামে কেন অভিযুক্তদের সন্ধান করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন উঠেছে। সাঁইথিয়া থানার এক পুলিস আধিকারিক বলেন, এই প্রতারকরা এখন সাইথিয়ার দিকে তাদের কর্মকাণ্ড চালাতে পারছে না। কড়া নজরদারির কারণে তারা অন্যান্য দিকে সাধারণ মানুষকে ডেকে এনে তাদের প্রতারণা করছে।
জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলছিলেন, এই প্রতারকরা অনেকেই ইতিপূর্বে পুলিসের হাতে ধরা পড়েছিল। তাদের অনেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে ফের একই কাজ শুরু করছে। সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে।
জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলছিলেন, এই প্রতারকরা অনেকেই ইতিপূর্বে পুলিসের হাতে ধরা পড়েছিল। তাদের অনেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে ফের একই কাজ শুরু করছে। সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে।



