Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পূর্বস্থলীর চুপিতে পরিযায়ী পাখির আনাগোনা, পর্যটক সমাগম শুরু

পূর্বস্থলীর চুপিতে পরিযায়ী পাখির আনাগোনা, পর্যটক সমাগম শুরু
  • ৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
অনিমেষ মণ্ডল, কাটোয়া: শীতের আমেজ শুরু হতেই পূর্বস্থলীর চুপির পাখিরালয়ে বিদেশি পাখির আনাগোনা শুরু হয়েছে। পর্যটনের মরশুম শুরু হচ্ছে। পর্যটকদের আনাগোনাও শুরু হয়েছে পূর্বস্থলীতে। তবে চুপির ছাড়িগঙ্গায় কচুরিপানায় ভরে গিয়েছে। পর্যটকদের নিয়ে নৌকা চালাতে চরম সমস্যার মুখে পড়ছেন মাঝিরা। প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। তাই নৌকার মাঝিরা নিজেদের উদ্যোগেই কচুরিপানা সরানোর কাজ শুরু করেছেন। বাঁশ, দড়ি বেঁধে নৌকা চলাচলের সুবিধার জন্য কচুরিপানা সরাচ্ছেন। 
Advertisement
পূর্বস্থলী উত্তরের বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ছাড়িগঙ্গা কচুরিপানায় ভরে গিয়েছে। আমি বিষয়টা দেখছি। বিডিওর সঙ্গে এবিষয়ে কথা বলব। প্রশাসনের উদ্যোগেও কচুরিপানা সরিয়ে দেওয়া হবে। তবে কিছু কচুরিপানা রাখতে হবে। তা না হলে পাখিদের সমস্যা হবে।  
কয়েক দশক ধরে পূর্বস্থলীর ছাড়িগঙ্গাজুড়েই বিদেশি পাখিদের বিচরণ ক্ষেত্র গড়ে উঠেছে। চুপি, কাষ্ঠশালী, রাজারচর প্রভৃতি এলাকায় বিদেশি পাখিদের দেখতে প্রতি বছর শীতের মরশুমে বহু পর্যটক আসেন। নামী চিত্রগ্রাহকরাও আসেন বিদেশি পাখির ছবি তুলতে। পর্যটকদের জন্য ছাড়িগঙ্গার পাড় এলাকাজুড়ে প্রচুর রিসর্ট গড়ে উঠেছে। রাজ্য সরকার চুপির পাখিরালয়কে ঘিরে বড় পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। এতে ওই এলাকার বাসিন্দাদের অর্থনৈতিক চিত্র বদলাচ্ছে। এমন অবস্থায় সংস্কারের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে ছাড়িগঙ্গা জুড়ে কচুরিপানায় ভরে উঠেছে। বর্ষাকালে বেশকিছু চাষি ছাড়িগঙ্গার জলে পাট পচিয়েছেন। ফলে জল নোংরা হয়ে গিয়েছে। কচুরিপানার ফলে বিদেশি পাখিদের বসতে সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি নৌকা চালকরাও নৌকাবিহারে সমস্যার মুখে পড়ছেন। পর্যটনের মরশুম শুরু হওয়ায় মাঝিরা নিজেদের পয়সা খরচ করেই জীবিকা বাঁচানোর তাগিদে পানা পরিষ্কার করছেন। 
চুপির পাখিরালয়ের মাঝি বাবু শেখ বলেন, আমরা ছাড়িগঙ্গাজুড়ে দু’দিকে প্রায় ২০কিমি এলাকায় নৌকাবিহার করে পর্যটকদের বিদেশি পাখি দেখিয়ে আনি। কয়েক বছর ধরে জল কচুরিপানায় ভরে গিয়েছে। ফলে আমাদের প্রায় ১০০টি নৌকা ছাড়িগঙ্গায় চলাচল করতে ব্যাপক অসুবিধা হচ্ছে। প্রশাসনকে আমরা বারবার কচুরিপানা সরানোর জন্য বলেছি। তাতে কোনও কাজ হয়নি। তাই আমরা নিজেদের জীবিকা বাঁচাতে কচুরিপানা সরানোর কাজ শুরু করেছি। ছাড়িগঙ্গার নাব্যতা কমে গিয়েছে। বিদেশি পাখিরা সাধারণত জলের শ্যাওলা খায়। এভাবে কচুরিপানায় জল ঢেকে থাকলে পাখিরা কি খাবে? এখন থেকেই প্রচুর পাখি আসছে। আর এক মাঝি সহিবুল শেখ বলেন, প্রাচীন মায়াপুর থেকে ইদ্রাকপুর এলাকায় ছাড়িগঙ্গায় বাঁধ দিয়ে দিয়েছে। যার ফলে ভাগীরথী থেকে জল আসছে না। রাজারচরের ভাগীরথী দিয়ে ছাড়িগঙ্গায় মূল যে চ্যানেলে জল ঢোকে সেই রাস্তায় পলি পড়ে ক্রমশ বুজে যাচ্ছে। ড্রেজিং না করলে আগামী দিনে চুপির ছাড়িগঙ্গায় জল ঢোকা বন্ধ হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেলে আমরা খাব কী? তাই প্রশাসনের কাছে চুপির ছাড়িগঙ্গা দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।আরও জানা গিয়েছে, পূর্বস্থলী-২ ব্লকের চুপি এলাকায় ছাড়িগঙ্গায় তিন দশকের বেশি সময় ধরে উত্তর এশিয়া, ইউরোপ, কাসপিয়ান সাগর, সাইবেরিয়া, তিব্বত প্রভৃতি দেশ থেকে আসে পরিযায়ী পাখি। পূর্বস্থলীর চুপিতেই ৮১টি প্রজাতির পরিযায়ী পাখি আসে। এরমধ্যে আবার ১৩টি বিলুপ্তি প্রজাতির পাখির বিচরণক্ষেত্র গড়ে ওঠে পূর্বস্থলীর চুপিতে। আর এইসব বিদেশি পাখিদের জলকেলি দেখতে চুপিতে পর্যটকদের প্রথম পছন্দের জায়গা হয় প্রতিবছর।  
সম্পর্কিত সংবাদ