Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পরিবারকে অসহ্য অত্যাচার, দ্বিতীয় স্ত্রীকে খুনের হুমকি দিয়েছিল সাজ্জাক

পরিবারকে অসহ্য অত্যাচার, দ্বিতীয় স্ত্রীকে খুনের হুমকি দিয়েছিল সাজ্জাক
  • ২০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: পোল্ট্রিফার্মের সাধারণ কর্মী থেকে গ্যাংস্টার। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে রকেট গতিতে এমন উত্থান হয়েছিল ২৬ বছরের সাজ্জাক আলমের। শুধু তাই নয়, একাধিক বিয়ে এবং নারীসঙ্গ ছিল তার। এর জেরেই চরম দাম্পত্য কলহ। ওয়াকিবহাল মহলের অনুমান, অন্যান্য প্রযুক্তির পাশাপাশি পুলিস সাজ্জাকের পারিবারিক সমস্যার সুযোগ পাওয়ায় তার খোঁজ পাওয়া সহজ হয়েছে পুলিসের পক্ষে। যদিও পুলিস জানিয়েছে, যেদিন সাজ্জাক পাঞ্জিপাড়ায় পুলিসকে গুলি করে পালায়, তখনই তদন্তকারীরা তাকে ধরতে জাল বিস্তার করেন। সোর্স ও টেকনিক্যাল সাপোর্ট নিয়েই ওর খোঁজ পাওয়া যায়। কিন্তু আত্মসমর্পণ করতে বললেও শোনেনি। রবিবার রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের তিনজনের বোর্ড তৈরি করে সাজ্জাকের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। উপস্থিত ছিলেন একজন ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিস ও সাজ্জাকের দুই স্ত্রী ও তার পরিবার। গোটা প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফি হয়। হাসপাতালেই সাজ্জাকের পারিবারিক গোলযোগের ইঙ্গিত মেলে। গোয়ালপোখরের খামারপুকুর এলাকার বাসিন্দা সাবাতুন খাতুন। সম্পর্কে সাজ্জাকের শাশুড়ি। সাবাতুনের মেয়ে সাজ্জাকের দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী। ওই বৃদ্ধার দাবি, কোনওদিনই সাজ্জাকের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন ভালো ছিল না মেয়ের। ওকে আমরাও ভয় পেতাম। ওর বেহিসেবি জীবনযাত্রা নিয়ে প্রশ্ন করায় কয়েক বছর আগে জেলে যাওয়ার সময় হুমকি দেয় আমাদের। বলেছিল জেল থেকে বেরলে গুলি করে মারবে। তাই যখন শুনি ও পুলিসকে গুলি করে পালিয়েছে, আমরা প্রাণের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পুলিসের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। পাশাপাশি, সাজ্জাকের প্রথম পক্ষের স্ত্রী আফরোজার আত্মীয় তোফিজুল হকের দাবি, সাজ্জাক পুলিসকে গুলি করে পালিয়েছিল। এটা ওর ভবিতব্য ছিল। অপরাধ করেছে, তাই পুলিস ওকে মেরেছে। 
Advertisement
পুলিসও গ্যাংস্টার সাজ্জাকের উত্থান নিয়ে বিস্মিত। পুলিস সূত্রে খবর, সাজ্জাক ২০১৯ সালে করণদিঘির পোল্ট্রি ফার্মের মালিক সুবেশ দাস খুনের মামলায় জড়িত ছিল। সেজন্য ও রায়গঞ্জ জেলা সংশোধনাগারে ছিল। কিন্তু অপরাধের হাতেখড়ি তারও আগে। গোয়ালপোখর থানা এলাকায় একটি ছিনতাই মামলা রুজু আছে সাজ্জাকের বিরুদ্ধে। বরাবরই আগ্নেয়াস্ত্র চালানোর ব্যাপারে পটু ছিল। এছাড়াও এলাকায় মানুষের সঙ্গে তেমন মেলামেশা ছিল না। খারাপ ব্যবহার করত। তাই সাজ্জাক অনেকেরই চক্ষুশূল ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা আঞ্জারুল ইসলাম, আস্তার আলি, মোজারুল ইসলামরা। তারপরই রায়গঞ্জ জেলা সংশোধনাগারে এসে আব্দুল হোসেনের সঙ্গে সাজ্জাকের পরিচয় হয়। সেখানে বসেই ওর যাবতীয় পরিকল্পনা। যার রূপায়ণ সম্প্রতি ইসলামপুর আদালত থেকে ফেরার সময় পাঞ্জিপাড়ায় ফিল্মি কায়দায় পুলিসকে গুলি করে পালানোর সময়।
সম্পর্কিত সংবাদ