Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পূর্বপল্লির মাঠ থেকে উঠল দোকানপাঠ

পূর্বপল্লির মাঠ থেকে উঠল দোকানপাঠ
  • ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বোলপুর: রবিবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শান্তিনিকেতনের পূর্বপল্লির মাঠ থেকে পৌষমেলার দোকানপাট উঠল।‌ দোকানদারদের স্টল তোলার জন্য এদিন সকাল থেকেই তৎপর ছিল বিশ্বভারতী ও জেলা প্রশাসন। যদিও শান্তিপূর্ণভাবেই স্টলমালিকরা নিজেদের সামগ্রী মেলার মাঠ থেকে সরিয়ে নিয়েছেন। তবে এদিন বছরের শেষ রবিবার ছিল। তাই পৌষমেলা শেষ হতেই পর্যটকদের ভিড় সরল সোনাঝুরি খোয়াইয়ের হাটে। পর্যটকদের গাড়ি ও টোটো চালকদের দাপটে এদিন শান্তিনিকেতন রোড কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়। যা সামাল দিতে পুলিস হিমশিম খায়। যদিও অপ্রীতিকর কোনও ঘটনা না ঘটায় স্বস্তিতে প্রশাসন। 
Advertisement
বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছিল, এবছর মেলা ২৮ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। শনিবার রাত ১২টা বাজতেই দোকানপাট গোটানোর জন্য গভীর রাতেই মেলার মাঠে অভিযান শুরু করে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ও জেলা পুলিস। সেখানেই না থেমে এদিন সকালেও তা জারি রেখেছিল মেলা কমিটি ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। এদিন সকালে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য বিনয়কুমার সোরেন, জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখের উপস্থিতিতে দোকানদারদের ওঠানোর জন্য মাইকিং শুরু করে শান্তিনিকেতন থানার পুলিস। বিক্রেতারা যাতে নির্দিষ্ট সময় উঠে যান সেজন্য তাঁরা মেলার মাঠ পরিদর্শন করেন। নতুন করে যাতে পর্যটক বা স্থানীয়রা ঢুকতে না পারেন সেজন্য দু’টি ফটক বাদে বাকি সকল গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে ক্রেতারা ঢুকতে না পারায় ব্যবসায়ীরাও‌ দোকানপাট গোটানো শুরু করেন। তবে মেলা শেষ হলেও মাঠজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে প্লাস্টিক, নোংরা ও আবর্জনা। হাতে রয়েছে মাত্র দু’দিন। ‌এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পূর্বপল্লির মাঠ পরিষ্কার করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বিশ্বভারতী ও জেলা প্রশাসনের। কারণ, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্বপল্লির মাঠকে পূর্বাবস্থায় ফেরানোর রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনাল। যদিও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত কাজ সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য। 
মেলা শেষ হলেও বর্ষশেষের উৎসব উপলক্ষ্যে শান্তিনিকেতনে ভিড় জমিয়েছেন দেশ ও রাজ্যের নানা প্রান্তের পর্যটকরা। রবিবার শান্তিনিকেতনে লক্ষাধিক জনসমাগম হয় বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে। সেই ভিড় আছড়ে পড়ে সোনাঝুরি খোয়াইয়ের হাটে। পর্যটকদের গাড়ি ও টোটো চলাচলে রাস্তায় তিল ধরণের ঠাঁই ছিল না। ফলে বোলপুরের স্টেশন রোড থেকে প্রান্তিক পর্যন্ত শান্তিনিকেতন রোডের সর্বত্রই ব্যাপক যানজট হয়। যা সামলাতে পুলিসকে কার্যত হিমশিম খেতে হয়। তবে অপ্রীতিকর কোনও ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন পুলিসের এক আধিকারিক।
সম্পর্কিত সংবাদ