নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমান এবং হুগলি সিন্ডিকেটের জন্যই মেদিনীপুর এবং বাঁকুড়ার আলু ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মেদিনীপুর ও বাঁকুড়ার পোখরাজ, কে টোয়েন্টি জাতীয় আলু বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশায় বিক্রি হয়। এরাজ্যে ওই ধরনের আলুর তেমন চাহিদা থাকে না। কিন্তু পূর্ব বর্ধমান এবং হুগলির আলু এরাজ্যের বাসিন্দাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। হুগলির আলু বেশিরভাগ কলকাতা এবং শহরতলি এলাকায় যায়। পূর্ব বর্ধমানের আলুর চাহিদা অন্যান্য জায়গার মতো পশ্চিম বর্ধমানের বাজারগুলিতে রয়েছে। কৃষি বিপণন দপ্তরের দাবি, গত বছর রাজ্যে আলুর ফলন কম হয়েছিল। এখন হিমঘরে যে পরিমাণ আলু রয়েছে তা অন্য রাজ্যে গেলে এরাজ্য আলুর দাম আরও বেড়ে যাবে। ভিনরাজ্যে আলু পাঠানোর ছাড়পত্র দেওয়া হলে হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমানের সিন্ডিকেট সব থেকে বেশি সুবিধা তোলে। তারা ট্রাক বোঝাই করে আলু বাইরের রাজ্যে নিয়ে চলে যায়। তারা এই কাজ না করলে মেদিনীপুর বা বাঁকুড়ার ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতো না। তাদেরকে বাইরে আলু নিয়ে যাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হতো। পশ্চিম মেদিনীপুরের আলু ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক বরুণ পণ্ডিত বলেন, শুধু পশ্চিম মেদিনীপুরের হিমঘরগুলিতে এখনও পর্যন্ত ৩৩ লক্ষ প্যাকেট আলু মজুত রয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর হিমঘর বন্ধ হয়ে যাবে। এই বিপুল পরিমাণ অনুন্নত প্রজাতির আলু নিয়ে আমরা কী করব। এরাজ্যে তা বিক্রি হয় না। হুগলি বা বর্ধমানের আলু এরাজ্যে বিক্রি হয়। তারা যদি ভিনরাজ্যে আলু নিয়ে যায় তাহলে সরকার চিহ্নিত করতে পারে। পশ্চিম মেদিনীপুরের আলু কোনও দিনই এরাজ্যে বিক্রি হয় না। পূর্ব বর্ধমানের আলু ব্যবসায়ী জগবন্ধু মণ্ডল বলেন, সব ব্যবসায়ীর বাইরে আলু বিক্রির অধিকার রয়েছে। এরাজ্যের আলু এখানে বিক্রি করতে হবে এমন নিয়ম নেই। কৃষি বিপণন দপ্তরের দাবি, কিছু বড় ব্যবসায়ী এবং হিমঘর মালিক নিজেরা ফায়দা লোটার চেষ্টা করছেন। তাঁরা ছোট ব্যবসায়ী বা আমজনতার কথা ভাবছেন না। ভিনরাজ্যে আলু পাঠিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। রাজ্যের কৃষি বিপণন দপ্তরের মন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেন, আমরা সবকিছুর উপর নজর রাখছি।
Advertisement
কিছু ব্যবসায়ী ভোটিং করে আলুর দাম বাড়াচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় গ্রুপ করে তারা এই কাজ করছে। পুলিস বিষয়টিতে তদন্ত শুরু করেছে। এছাড়া কিছু হিমঘর মালিক আলু স্টোরের পরিমাণ কম দেখিয়েছেন। তাঁদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে। কৃষি বিপণন দপ্তর সূত্রেই জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমান এবং হুগলির আলু ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন কৌশলে এখনও বাইরের রাজ্যে আলু নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। সমস্ত সীমানায় পুলিস নজরদারি বাড়িয়েছে। এরমধ্যে বাজারে নতুন আলুও ঢুকতে শুরু করেছে। তবে সিন্ডিকেটের জন্য মেদিনীপুর এবং বাঁকুড়ার আলু ব্যবসায়ীরা বেকায়দায় পড়ে গিয়েছেন। বাইরের রাজ্যে আলু নিয়ে যাওয়ার ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য বৃহস্পতিবারও তারা পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসকের দপ্তরে স্মারকলিপি জমা করেছেন।



