নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: অরণ্যশহর ঝাড়গ্রামে নাট্যচর্চায় উৎসাহ বাড়ছে। শহরের অন্যতম নাট্যগোষ্ঠী প্রয়াস শিল্পচর্চা নিকেতনের উদ্যোগে প্রতিবছরের মতো এবারও বিশ্ব নাট্য দিবস উপলক্ষ্যে নাটক মঞ্চস্থ করা হয়। শহরের বাছুরডোবায় প্রদীপ জ্বালিয়ে ও সমবেত সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। গ্রিক নাট্যব্যক্তিত্ব থিওডোরোস টেরজোপোলসের নাটক-সংক্রান্ত বার্তা বাংলায় পাঠ করা হয়। নাটক দেখতে শহরের সংস্কৃতিমনস্ক বহু মানুষ এসেছিলেন।
ঝাড়গ্রামে গত ছয় ও সাতের দশক থেকে নাট্যচর্চায় জোয়ার আসে। প্রয়াস শিল্পচর্চা নিকেতনের যাত্রা শুরু ২০০৩ সালে। দুই দশক ধরে সামাজিক বার্তা দিতে একের পর এক মননশীল নাটক প্রযোজনা করে চলেছে তারা। এই নাট্যদলের প্রাণপুরুষ স্বর্গীয় মধুসূদন মুখোপাধ্যায় রচিত দু’টি একাঙ্ক নাটক ‘সহচরী’ ও ‘নেচো’ এদিন মঞ্চস্থ হয়। প্রথম নাটকে ভিটেমাটি আঁকড়ে পড়ে থাকা এক বৃদ্ধা, তাঁর নাতি-নাতনি ও পরিবারের সদস্যদের সাহচর্যের গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। অনবদ্য অভিনয়গুণে দর্শকদের মন জয় করে নেন নাট্যশিল্পী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। নাটকের পর দু’টি গান গাওয়া হয়। এরপর ‘নেচো’ নাটক মঞ্চস্থ হয়। এই নাটকের মূল বক্তব্য, সৃষ্টির বহিঃপ্রকাশের ভিতর এক নিজস্ব ছন্দ আছে। নৃত্যশিল্পীর নৃত্যেও আছে এক ছন্দ। যা আসলে প্রকৃতিরই ছন্দের প্রকাশ। তরুণ নাট্যশিল্পী সুশান্ত দে মনোমুগ্ধকর অভিনয়ে তা ফুটিয়ে তোলেন। নাটক চলাকালীন তার বিষয়বস্তু ক্যানভাসে রং-তুলি দিয়ে ফুটিয়ে তোলেন শ্রেয়সী মাহাত। প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের একটি অপ্রকাশিত গান পরিবেশন করে অনুষ্ঠান শেষ করা হয়।এই নাট্যগোষ্ঠীর প্রধান ব্যক্তিত্ব প্রদীপ চক্রবর্তী বলেন, নাটক ও ক্লাসিক্যাল আর্টের চর্চা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আর্থিক সমস্যাই নাট্যচর্চায় প্রধান বাধা। নাট্যচর্চার প্রসারে সরকার, সংস্কৃতিমনস্ক মানুষ সহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তরুণ নাট্যকর্মী সুশান্ত দে বলেন, নাটক এমন এক শিল্প যা মঞ্চ, অভিনেতা ও দর্শককে মিলিয়ে দেয়। অভিঘাত তৈরি করে। প্রয়াস নাট্য সংস্থার প্রযোজিত একাধিক নাটক সাংস্কৃতিক মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে।