Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সেলিম-বিরোধিতায় সিপিএম ছাড়লেন তরুণ নেতা প্রতীক উর, দলবদলের চর্চা

স্বয়ং রাজ্য সম্পাদকের বিরোধিতা? নাকি শুধুই দলের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’? কারণ, পিছনের সারিতে।

সেলিম-বিরোধিতায় সিপিএম ছাড়লেন তরুণ নেতা প্রতীক উর, দলবদলের চর্চা
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্বয়ং রাজ্য সম্পাদকের বিরোধিতা? নাকি শুধুই দলের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’? কারণ, পিছনের সারিতে। খবরের শিরোনামে একটি মাত্র খবর—রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন সিপিএম রাজ্য কমিটির সদস্য প্রতীক উর রহমান। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা কমিটিরও সদস্য ছিলেন প্রতীক উর। আর তাই ভোটের মুখে চূড়ান্ত অস্বস্তিতে সিপিএম। এই অস্বস্তি বাড়াচ্ছে আরও একটি প্রশ্ন—পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে চলেছে? নেতৃত্ব বলছেন, আলোচনার সুযোগ আছে। তৃণমূলের নেতারা তাঁকে ‘সজ্জন’ ব্যক্তি বলেছেন। তাই জল্পনা বাড়ছে, তরুণ নেতা কি তৃণমূলে?

Advertisement

পার্টির সর্বক্ষণের কর্মী সিপিএমের তরুণ মুখের এমন পদক্ষেপে বিচলিত কর্মী-সমর্থকরা। সূত্রের খবর, আলিমুদ্দিনের কাছে এই খবর ‘আচমকা’ নয়। সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্যের কথায়, ‘খবর শোনা যাচ্ছিল।’ প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কথা বলা হল না কেন? সূত্রের দাবি, প্রথম সারির এক নেতা প্রতীক উরের সঙ্গে কয়েকদিন আগে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তিনি সাড়া দেননি। বিগত কয়েকদিনে এই তরুণ নেতা রাজ্য কমিটি সহ দলের নানা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকেও বেরিয়ে গিয়েছেন। অবশেষে সোমবার পদত্যাগপত্র দেন তিনি। তাতে একদা এসএফআইয়ের রাজ্য সভাপতি লিখেছেন, পার্টির জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের বেশকিছু ভাবনার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছেন না তিনি। মানসিক দ্বন্দ্বে রয়েছেন। প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে কি রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমই নিশানায়? নেতারা বলছেন ‘বেদনাদায়ক’। তবে কয়েকটি বিষয় নিয়ে চর্চা পুরোদমে। প্রথমত, এসএফআই ছাড়ার পর দলের অন্য সংগঠনে সেভাবে কাজ করতে পারছিলেন না। রাজ্য ও জেলা কমিটির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও হতাশা বাড়ছিল। একাংশের দাবি, তৃণমূলের সঙ্গে নাকি ইতিমধ্যেই যোগাযোগ হয়েছে ডায়মন্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপক্ষে দাঁড়ানো এই সিপিএম প্রার্থীর। দ্বিতীয়ত, হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে মহম্মদ সেলিমের সাক্ষাৎ। তারপরই তিনি সমাজ মাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘নীতি নৈতিকতা ছাড়া আর যাই হোক, কমিউনিস্ট পার্টি হয় না।’ তখন থেকেই জল্পনার শুরু। প্রতীক উরকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘এখনই বাইরে কিছু বলব না। পার্টির অভ্যন্তরে যা জানানোর জানিয়েছি।’ এবার কোন পথে এগবেন? প্রতীক উর বলছেন, ‘সব জানাব। সকলকে ডেকে জানাব।’ দলের একাংশের প্রশ্ন, পার্টিকে পাঠানো চিঠি কীভাবে সামাজিক মাধ্যমে চলে এলো? এদিন দুপুরের দিকেই পদত্যাগপত্র পোস্ট করে তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি লেখেন, ‘সিপিএমের বায়োলজিকাল ফেরেব্বাজ নেতৃত্বের অংশ ও ফেসবুকের সভ্যতাহীন ফুটেজ বিপ্লবীদের দাপটে সিপিএমেরই প্রথম সারির যুবনেতাদের অবস্থা ও সিদ্ধান্ত এরকম।’ শতরূপ ঘোষ, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়রা বলছেন, পার্টি নেতৃত্ব নিশ্চয়ই এই বিষয়ে কথা বলবেন। আর স্বয়ং মহম্মদ সেলিম মুর্শিদাবাদে সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ‘এটা দলের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক বিষয়। এটা মিডিয়া বা সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা হয় না। সামনেই রাজ্য কমিটির বৈঠক। সেখানে আলোচনা হবে।’ ভোটের আগে আসন সমঝোতার মাঝে ডায়মন্ডহারবারের জল কোন দিকে গড়ায়, সেটাই দেখার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ