আমডাঙার করুণাময়ী কালীমন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে প্রতাপাদিত্যর যশোরেশ্বরী
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: যশোরের আরাধ্যা দেবী যশোরেশ্বরী। সেই বিগ্রহ ঘিরে মুঘল আমলের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে আমডাঙার করুণাময়ী কালীমন্দিরের কাহিনি। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, রাজা প্রতাপাদিত্যের আরাধ্য দেবীর বিগ্রহ সেনাপতি মানসিংহ নিয়ে গিয়েছিলেন রাজস্থানের অম্বরে। পরে স্বপ্নাদেশ পেয়ে বাংলায় বিকল্প বিগ্রহ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। সেই সূত্রে প্রায় ৫০০ বছর আগে আমডাঙায় শুরু হয় করুণাময়ী কালীমন্দিরের ইতিহাস। কথিত আছে, সম্রাট আকবরের আমলে বাংলার যশোরে রাজত্ব করতেন রাজা প্রতাপাদিত্য। তাঁর ভক্তির উৎস ছিলেন আরাধ্যা যশোরেশ্বরী। প্রতাপাদিত্যকে পরাস্ত করতে মুঘল বাহিনীকে নিয়ে যশোরে অভিযান চালান মানসিংহ। সে সময় দেবীর বিগ্রহ নিয়ে যাওয়া হয় অম্বরে। বিগ্রহ হারিয়ে ভেঙে পড়েন প্রতাপাদিত্য। দেবীর প্রধান সেবায়েত রামানন্দ গিরি গোস্বামীও শোকে দিশাহারা হয়ে বাংলার বিভিন্নপ্রান্তে ঘুরতে থাকেন। পরে মানসিংহ স্বপ্নাদেশ পান, বিকল্প বিগ্রহ প্রতিষ্ঠার। অতঃপর রামডাঙার জঙ্গলে খোঁজ মেলে রামানন্দের। কথিত, তাঁর নাম এবং নদীর ধারের অবস্থান থেকেই এলাকার নাম হয় রামডাঙা। পরে মুখে মুখে তা হয়ে ওঠে আমডাঙা। সেখানে প্রতিষ্ঠা পায় করুণাময়ী কালীমন্দির। সেই থেকে দেবী করুণাময়ীর আরাধনা চলে আসছে। এ পুজোর একাধিক বিশেষত্ব। তার মধ্যে অন্যতম, ১০৮ নারায়ণ শিলার উপর প্রতিষ্ঠিত রত্নবেদী। মন্দির কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, শ্রীক্ষেত্র ছাড়া দেশের অন্য কোনো তীর্থক্ষেত্রে এমন বেদী নেই। মানুষের বিশ্বাস, এই বেদীর আকর্ষণেই আসেন সাধক রামপ্রসাদ ও ঠাকুর রামকৃষ্ণ। রয়েছে পঞ্চমুণ্ডির আসন, মনসা বেদী এবং ব্রজমোহন মন্দির। পঞ্চমুণ্ডির আসনে বসে তন্ত্রসাধকরা সাধনা করেন। এ রাজ্যের তো বটেও ভিনরাজ্য থেকেও বহু ভক্ত আসেন এই মন্দিরে। মানত পূরণ হলে সোনা ও রুপোর গয়না নিবেদন করেন। বিয়ে, অন্নপ্রাশনের মতো পারিবারিক অনুষ্ঠানও হয় মন্দির চত্বরে। তবে কালীপুজোর সময়ে ভক্তসমাগম ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে মন্দির হয়ে ওঠে মহাসাধনক্ষেত্র।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement