Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পড়ুয়ার অভাবে সদর ব্লকে বন্ধ ন’টি এসএসকে, বন্ধের মুখে আরও ৪টি

পড়ুয়ার অভাবে সদর ব্লকে বন্ধ ন’টি এসএসকে, বন্ধের মুখে আরও ৪টি
  • ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: পড়ুয়ার অভাবে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকে একের পর এক শিশু শিক্ষাকেন্দ্র (এসএসকে) বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আগেই বন্ধ হয়েছে ৯টি। ধুঁকছে আরও বেশকিছু। এর মধ্যে নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে আরও চারটি শিশু শিক্ষাকেন্দ্র বন্ধ হতে চলেছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। কীভাবে এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা যায়, সেটাই এখন চিন্তা প্রশাসনের।
Advertisement
জলপাইগুড়ি সদর ব্লকে চালু শিশু শিক্ষাকেন্দ্র বা এসএসকে রয়েছে ৬২টি। অন্যদিকে, চালু মধ্য শিক্ষাকেন্দ্র বা এমএসকে’র সংখ্যা ৯টি। কিন্তু এগুলির অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। প্রতিটি শিশু শিক্ষাকেন্দ্রে চারজন করে সহায়ক-সহায়িকা থাকার কথা। কিন্তু প্রশাসন সূত্রে খবর, দশটি এসএসকে রয়েছে, যেখানে মাত্র একজন সহায়িকা। ফলে পড়াশোনা কার্যত লাটে উঠেছে। দু’জন সহায়িকা রয়েছেন, এমন এসএসকে রয়েছে ৩৩টি। তিনজন সহায়িকা রয়েছেন, এ ধরনের এসএসকে’র সংখ্যা ১৭টি। চারজন সহায়িকা রয়েছেন এমন শিশু শিক্ষাকেন্দ্র রয়েছে মাত্র তিনটি।
প্রশাসন সূত্রে খবর, সদর ব্লকের পূর্ব সেবাগ্রাম, সরকারপাড়া, নিবেদিতা ও মুন্ডাবস্তি এসএসকে’র হাল খুবই শোচনীয়। এগুলিতে পড়ুয়া নেই বললেই চলে। সেকারণে জানুয়ারি থেকে এই শিশু শিক্ষাকেন্দ্রগুলি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সদর ব্লকে এসএসকে, এমএসকে’র দায়িত্বপ্রাপ্ত সমিতি এডুকেশন অফিসার দেবযানী সরকার বলেন, কিছু শিশু শিক্ষাকেন্দ্রে পড়ুয়ার সংখ্যা তলানিতে ঠেকেছে। এজন্য আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকে চারটি এসএসকে বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। ওইসব শিশু শিক্ষাকেন্দ্রগুলিতে হাতেগোনা যে দু-একজন পড়ুয়া রয়েছে, তাদের কাছের প্রাইমারি স্কুলে ভর্তির ব্যবস্থা করা হবে।
এসএসকে, এমএসকেগুলির বেহাল অবস্থা নিয়ে সরব হয়েছেন খোদ সহায়িকা, এডুকেশন সুপারভাইজাররা। কয়েকদিন আগে বিষয়টি নিয়ে জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সামনে বিক্ষোভ দেখান। সভাধিপতি কৃষ্ণা রায় বর্মনকে স্মারকলিপি দেন। তাঁদের অভিযোগ, সহায়িকা ও সম্প্রসারকের অভাবে জলপাইগুড়ি জেলাজুড়ে এসএসকে, এমএসকেগুলি ধুঁকছে। অনেক জায়গায় আবার এডুকেশন সুপারভাইজার নেই। ফলে শিশু শিক্ষাকেন্দ্র, মধ্য শিক্ষাকেন্দ্রগুলিতে কেমন পড়াশোনা চলছে, তা দেখভালের লোক পাওয়া যাচ্ছে না।
জেলায় ৫৫৬টি এসএসকে এবং ৬০টি এমএসকে রয়েছে। এসএসকেগুলিতে সহায়িকার সংখ্যা ১৩৫৭ জন। এমএসকেগুলিতে সম্প্রসারক রয়েছেন ২৩৭ জন। জেলায় এডুকেশন সুপারভাইজার রয়েছেন ১৭ জন।
শুধু জলপাইগুড়ি সদর নয়, জেলার প্রতিটি ব্লকের ছবিটা একইরকম। সহায়িকাদের দাবি, ক্রান্তি ব্লকে ৬০টি শিশু শিক্ষাকেন্দ্রে একজন সহায়িকা রয়েছেন। ফলে সেগুলি রীতিমতো ধুঁকছে। সহায়িকা না থাকায় ক্রান্তির পূর্ব লাটাগুড়ি আইসিডিএস সেন্টারে চলা এসএসকে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বন্ধের মুখে ক্রান্তির বালাডাঙি এসএসকে। অন্যএকটি এসএসকে থেকে সহায়িকা এসে কোনওমতে ওই শিশু শিক্ষাকেন্দ্রটি নামমাত্র চালু রাখা হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ