সংবাদদাতা, মায়াপুর: মেঝেতে শতরঞ্চি পেতে জনা কুড়ি ছাত্রছাত্রীকে পড়াচ্ছেন চারজন শিক্ষক। টেবিল বা বেঞ্চের বালাই নেই। নবদ্বীপ ব্লকের বাবলারী গ্রাম পঞ্চায়েতের সিদ্ধেশ্বরী বিষ্ণুপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছবিটা ঠিক এরকমই। কম ছাত্রছাত্রী নিয়ে ধুঁকছে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এই প্রাইমারি স্কুলটি।
Advertisement
বাবলারীর বাসিন্দা স্কুলের প্রধান শিক্ষক শোভন মজুমদার বলেন, সরকারের কাছে আমরা জানিয়েছি। কিন্তু স্কুলে তো সেভাবে ছাত্রছাত্রীই আসে না। এই ক’জন ছাত্রছাত্রীর বসার জন্য তাই কোনও বেঞ্চ এখনও বরাদ্দ হয়নি। স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা কম হওয়ার জন্য অভিভাবকদেরই দুষলেন সহকারী শিক্ষক সুব্রত সোম। তাঁর কথায়, এই অঞ্চলের অভিভাবকরা সন্তানকে ঘরের কাছের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি না করিয়ে ৩-৪ কিলোমিটার দূরে নবদ্বীপ শহরের নামজাদা স্কুলে পাঠানোই শ্রেয় মনে করেন। নবদ্বীপের কিছু নামী উচ্চ বিদ্যালয়ের মর্নিং সেকশনে প্রাইমারির ক্লাস হয়। ফলে অভিভাবকরা মনে করেন, ওইসব স্কুলের প্রাইমারি সেকশনে সন্তানকে ভর্তি করালে সহজেই সরাসরি হাইস্কুলে ভর্তি হওয়া যাবে। সুব্রতবাবু আরও জানান, আমাদের স্কুলে ভালো শৌচাগারের ব্যবস্থা আছে। মিড ডে মিলও দেওয়া হয় নিয়মিত। আমরা স্থানীয়দের সঙ্গে মিটিং করেছি অনেকবার। প্রতিবারই তাঁদের কাছে সমস্যার কথা জানতে চেয়েছি। ছেলেমেয়েদের এই স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য বারবার অনুরোধও করেছি। তবুও লাভ হয়নি।
প্রধান শিক্ষক শোভনবাবু বলেন, বেশিরভাগ ছেলেমেয়েই শহরের স্কুলে গিয়ে ভর্তি হচ্ছে। এখানে যে ক’টা বাচ্চা পড়তে আসে তাদের পরিবারের কেউ হয়তো এই স্কুলের প্রাক্তনী। তাই স্কুলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তাঁরা সন্তানদের এই স্কুলে পড়তে পাঠান। শোভনবাবুর আক্ষেপ, এইভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে একদিন হয়তো স্কুলটাই বন্ধ হয়ে যাবে।
পেশায় ছোট ব্যবসায়ী স্থানীয় এক বাসিন্দার মতে, কাজের সময়ে ব্যবসার ক্ষতি করে ছেলেকে রোজ দূরে নবদ্বীপের স্কুলে দিয়ে আসতে হয়। আসলে শহরের স্কুলের পরিকাঠামোও অনেক উন্নত, সুযোগ সুবিধাও বেশি। তাছাড়া প্রাইমারিতে একবার ভর্তি হতে পারলে পরবর্তীতে সহজেই পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সুযোগ পাওয়া যায়। তাই শত অসুবিধা সত্ত্বেও ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এই কষ্ট করছি।
প্রধান শিক্ষক শোভনবাবু বলেন, বেশিরভাগ ছেলেমেয়েই শহরের স্কুলে গিয়ে ভর্তি হচ্ছে। এখানে যে ক’টা বাচ্চা পড়তে আসে তাদের পরিবারের কেউ হয়তো এই স্কুলের প্রাক্তনী। তাই স্কুলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তাঁরা সন্তানদের এই স্কুলে পড়তে পাঠান। শোভনবাবুর আক্ষেপ, এইভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে একদিন হয়তো স্কুলটাই বন্ধ হয়ে যাবে।
পেশায় ছোট ব্যবসায়ী স্থানীয় এক বাসিন্দার মতে, কাজের সময়ে ব্যবসার ক্ষতি করে ছেলেকে রোজ দূরে নবদ্বীপের স্কুলে দিয়ে আসতে হয়। আসলে শহরের স্কুলের পরিকাঠামোও অনেক উন্নত, সুযোগ সুবিধাও বেশি। তাছাড়া প্রাইমারিতে একবার ভর্তি হতে পারলে পরবর্তীতে সহজেই পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সুযোগ পাওয়া যায়। তাই শত অসুবিধা সত্ত্বেও ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এই কষ্ট করছি।



