Bartaman Logo
২৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রিয় খুন কাণ্ডে তথ্য জোগাড় পুলিসের, বাকিদের খোঁজ শুরু

প্রিয় খুন কাণ্ডে তথ্য জোগাড় পুলিসের, বাকিদের খোঁজ শুরু
  • ২৫ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
মনসুর হাবিবুল্লাহ, দিনহাটা: প্রিয় দাসকে খুনের জন্য দিনহাটায় নিয়ে আসা হয়েছিল। প্রিয় দাস তার বন্ধু আকাশ দাসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ১২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল। নিজের অ্যাকাউন্টে টাকা নিলেও ব্যাঙ্ক থেকে তা তুলতে পারছিল না। সেই কারণেই সাহায্য নেয় সরফরাজ আলম ওরফে মোসলেমের। মোসলেমের অ্যাকাউন্টে ছ’লক্ষ টাকা স্থানান্তর করা হয়। প্রতি হাজার টাকায় ১০ টাকা কমিশন নেয় মোসলেম। 
Advertisement
অন্যদিকে, ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলে নিয়ে এসে পরিকল্পনাকারী বন্ধুর সঙ্গে বৈঠক করে প্রিয়। সেই বন্ধু তাকে গা ঢাকার দেওয়ার পরামর্শ দেয়। কারণ হিসেবে তাকে জানায় সরাসরি তার অ্যাকাউন্টেই জমা হয়েছে আকাশের অ্যাকাউন্ট থেকে তোলা টাকা। সেই বন্ধুর পরামর্শ মেনে বাড়ি ছাড়ার পরিকল্পনা নেয় প্রিয়। প্রিয়র পালানোর জন্য ভাড়া করে দেওয়া হয় একটি গাড়ি। সেই গাড়ির চালক ছিল আনিকুল হক। আনিকুল ইতিপূর্বে এক খুনের মামলায় জেল খেটেছিল। আনিকুলের সঙ্গে প্রিয় পরামর্শকারী সেই বন্ধুর পূর্বপরিচয় ছিল। প্রিয়কে খুনের জন্য আনিকুলকে নির্দেশ দেয় সেই বন্ধু। প্রিয়কে খাওয়ানের জন্য গাড়িতে রাখা হয়েছিল প্রচুর পরিমাণ মদ। তবে কোথায় খুন করা হবে প্রিয়কে তা নিয়ে তা নিয়ে ধন্দে ছিল আনিকুল। সেজন্য সে যোগাযোগ করে পাঞ্জিপাড়ায় ইট ভাটায় কর্মরত এক শ্রমিকের সঙ্গে।  সেই শ্রমিকের শ্বশুরবাড়ি দিনহাটার নয়ারহাটে। তার শ্যালকের নাম ওয়াসিম আক্রম। ওয়াসিম অস্ত্র আইনে গ্রেপ্তার হয়েছিল একবার। আনিকুল গাড়ি চালাচ্ছিল। প্রিয়র সঙ্গে ছিল ওয়াসিমের জামাইবাবু। দু’জনেই আকণ্ঠ মদ্যপান করছিল। প্রচুর পরিমাণে মদ খেয়ে বেঁহুশ হয়ে পড়ে প্রিয়। তবু প্রিয়কে খুন করার সাহসও ছিল না কারই। তখন খবর দেওয়া হয় ওয়াসিমকে। দিনহাটা থেকে তাকে গাড়িতে তুলে আনিকুলের দল। সাবেক ছিটমহল শিবপ্রসাদ মুস্তাফিতে ঢোকার মুখে একটি কালভার্ট রয়েছে। সেখানেই পা বেঁধে গলা টিপে মারা হয় প্রিয়কে। তারপরে কিছুটা দূরে এগিয়ে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় মৃতদেহ। ফেরার পথে দিনহাটাতে নামিয়ে দেওয়া হয় ওয়াসিমকে। প্রিয়র পরিচয়পত্র সহ মোবাইল নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছিল আনিকুলরা। ফেরার পথে ঘোকসাডাঙায় নদী লক্ষ্য করে সেগুলি ছুঁড়ে ফেলে। তবে নদীতে না পড়ে সেগুলি তরমুজ খেতে পড়ে যায়। এক চাষি পরিচয়পত্রগুলি পেয়ে পুলিসকে খবর দেয়। দ্রুত নিহত প্রিয়র পরিচয় উদ্ধার করে পুলিস। গ্রেপ্তার হয়েছে আনিকুল, ওয়াসিম ও সরফরাজ। 
দিনহাটা মহকুমা পুলিস আধিকারিক ধীমান মিত্র বলেন, প্রিয় খুনের তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছে। বাকিদের খোঁজে অভিযান চলছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ