সংবাদদাতা, রামপুরহাট: প্রতিষ্ঠার ৭০ বছর পর আলো পেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পাথুরে এলাকায় গ্রীষ্মকালে তীব্র দাবদহের মধ্যে আর হাঁফিয়ে উঠতে হবে না পড়ুয়াদের। ক্লাসে আলো-পাখার মুখ দেখতে চলেছে তারা। বর্তমান কাগজের খবরের জেরে স্কুলে বিদ্যুৎ আসায় খুশি স্কুল কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়, বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে চলেছেন স্কুল লাগোয়া মালপাড়ার বাসিন্দারাও। ইতিমধ্যে সেই পাড়ায় বিদ্যুতের খুঁটি পোঁতার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
Advertisement
ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া এলাকা রাজগ্রাম। স্বাধীনতা লাভের সাত বছরের মাথায় এলাকায় শিক্ষার বিস্তারে গড়ে ওঠে রাজগ্রাম ভিলেজ প্রাথমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে ঝাঁ চকচকে বেসরকারি স্কুলের দাপাদাপির মধ্যে যেখানে বহু প্রাথমিক বিদ্যালয় পড়ুয়ার অভাবে ধুঁকছে, সেখানে এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বরাবরই পডুয়ার সংখ্যা ভালো। এহেন স্কুল এতদিন ছিল নিষ্প্রদীপ। স্কুলে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় গরমে ক্লাসে বসে থাকাই দায় হয়ে পড়ে পডুয়াদের। তারা হাঁফিয়ে ওঠে। একইভাবে গরমে নাজেহাল অবস্থা হয় শিক্ষক শিক্ষিকাদেরও। স্কুল কর্তৃপক্ষ বারবার আবেদন জানালেও জোটেনি বিদ্যুৎ সংযোগ। স্কুলের পাশ দিয়ে চলে গিয়েছে পাথর শিল্পাঞ্চলে যাওয়ার রেল লাইন। রেল লাইনের জন্য যেমন প্রতিবন্ধকতা, তেমনি আম্ভুয়া গ্রাম হয়ে স্কুলে আসার রাস্তা রয়েছে। কিন্তু সেখান থেকে ফাঁকা জায়গায় থাকা স্কুলে বিদ্যুৎ আসতে ১৬-১৭টি খুঁটি দরকার। এই দু’টি কারণে নাকি স্কুলে বিদ্যুৎ সংযোগ হচ্ছিল না। এরই মধ্যে ২০১০ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আপার প্রাইমারি স্কুলের অনুমোদন মেলে। বর্তমানে পঞ্চম থেকে অষ্টম মিলিয়ে পডুয়ার সংখ্যা ২৩০। বিদ্যুৎ দপ্তর থেকে স্কুলকে জানানো হয়, রেল লাইন টপকে তারা বিদ্যুতের কেবল আনতে পারছে না। এদিকে আম্ভুয়া গ্রামের হাসপাতাল মোড় থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে যেতে অনেক খুঁটি দরকার। ফলে নানা জটিলতায় আঁধারেই চলছিল দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিদ্যুৎ না থাকায় কম্পিউটারের ব্যবহার বা পোর্টাল খুলে স্কুল দপ্তরের নির্দেশিকা দেখার কোনও উপায় ছিল না।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি সেই খবর প্রকাশিত হয় বর্তমান সংবাদপত্রে। এরপরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। আপার প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক অর্নিবাণ চৌধুরী বলেন, বর্তমান কাগজে খবর প্রকাশের পরদিন বিদ্যুৎ দপ্তরের ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার, দপ্তরের মুরারইয়ের আধিকারিকরা স্কুলে আসেন। তাঁরা সব দিক খতিয়ে দেখেন। কিন্তু লাইন টপকে বিদ্যুৎ নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি রেল। অবশেষে আম্ভুয়া গ্রাম হয়ে বিদ্যুৎ নিয়ে আসার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। সেই মতো পরের দিন থেকেই ১৭টি খুঁটি পুঁতে তার সংযোগ করে মঙ্গলবার প্রাথমিক স্কুলের পিছনে মিটার বসিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। আমার স্কুলেও আগামী সপ্তাহে মিটার বসে যাবে। তিনি বলেন, বর্তমান কাগজের প্রচেষ্টার ফলেই বিদ্যুৎ সংযোগ মিলল। এভাবে সমস্যার কথা তুলে না ধরলে হয়তো এখনও আঁধার ঘুচত না। এরজন্য বর্তমানকে ধন্যবাদ জানাই। অন্যদিকে বর্তমান কাগজকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্কুলেরই প্রাক্তন ছাত্র তথা বর্তমান প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রতীতপবন মাল। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ মেলার বিষয়টি এসআইকে জানিয়েছি। ওয়্যারিং, পাখা, লাইটের ব্যবস্থা তিনি করে দেবেন বলেছেন। এদিকে স্কুলের পাশেই মালপাড়া। এতদিন পাড়ার ৩৭টি পরিবারকে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় বসবাস করতে হচ্ছিল। সেই পরিবারেও বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে খুঁটি পুঁতেছে দপ্তর। স্বভাবতই খুশি সাধন মাল, এমেলি মাল, মেনকা মালরা। তাঁরা বলেন, বিদ্যুতের অভাবে টিভি দেখা দূর, মোবাইল চার্জ দিতে আম্ভুয়া গ্রামে যেতে হতো। এবার সুবিধার পাশাপাশি নিরাপত্তাও বাড়ল। - নিজস্ব চিত্র
গত ১২ ফেব্রুয়ারি সেই খবর প্রকাশিত হয় বর্তমান সংবাদপত্রে। এরপরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। আপার প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক অর্নিবাণ চৌধুরী বলেন, বর্তমান কাগজে খবর প্রকাশের পরদিন বিদ্যুৎ দপ্তরের ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার, দপ্তরের মুরারইয়ের আধিকারিকরা স্কুলে আসেন। তাঁরা সব দিক খতিয়ে দেখেন। কিন্তু লাইন টপকে বিদ্যুৎ নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি রেল। অবশেষে আম্ভুয়া গ্রাম হয়ে বিদ্যুৎ নিয়ে আসার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। সেই মতো পরের দিন থেকেই ১৭টি খুঁটি পুঁতে তার সংযোগ করে মঙ্গলবার প্রাথমিক স্কুলের পিছনে মিটার বসিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। আমার স্কুলেও আগামী সপ্তাহে মিটার বসে যাবে। তিনি বলেন, বর্তমান কাগজের প্রচেষ্টার ফলেই বিদ্যুৎ সংযোগ মিলল। এভাবে সমস্যার কথা তুলে না ধরলে হয়তো এখনও আঁধার ঘুচত না। এরজন্য বর্তমানকে ধন্যবাদ জানাই। অন্যদিকে বর্তমান কাগজকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্কুলেরই প্রাক্তন ছাত্র তথা বর্তমান প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রতীতপবন মাল। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ মেলার বিষয়টি এসআইকে জানিয়েছি। ওয়্যারিং, পাখা, লাইটের ব্যবস্থা তিনি করে দেবেন বলেছেন। এদিকে স্কুলের পাশেই মালপাড়া। এতদিন পাড়ার ৩৭টি পরিবারকে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় বসবাস করতে হচ্ছিল। সেই পরিবারেও বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে খুঁটি পুঁতেছে দপ্তর। স্বভাবতই খুশি সাধন মাল, এমেলি মাল, মেনকা মালরা। তাঁরা বলেন, বিদ্যুতের অভাবে টিভি দেখা দূর, মোবাইল চার্জ দিতে আম্ভুয়া গ্রামে যেতে হতো। এবার সুবিধার পাশাপাশি নিরাপত্তাও বাড়ল। - নিজস্ব চিত্র



