নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: মেদিনীপুর শহরের ওলিগঞ্জ এলাকায় পিপলস কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের নির্বাচনের আগে মনোনয়ন পত্র তোলা নিয়ে ডামাডোল অব্যাহত। অবশেষে বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের নির্দেশে মনোনয়ন পত্র তুললেন সিপিএমের চার প্রার্থী। এদিন কার্যত জামাই আদর করে সিপিএমের প্রার্থীদের কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে দলীয় কর্মীদের ভুলেই এদিন বাকি ৪৭টি আসনের জন্য মনোনয়ন পত্র তুলতে পারলেন না সিপিএম নেতৃত্ব। কারণ মাত্র চারজন প্রার্থী হাই কোর্টে গেলেও বাকি প্রার্থীরা যাননি। এরফলে চারজনকে মনোনয়ন পত্র তুলতে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। জানা গিয়েছে, এদিন পিপলস কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের উল্টোদিকে থাকা সিপিএমের পার্টি অফিস খুলে দেওয়া হয়। ব্যাঙ্কের বাইরে বিপুল সংখ্যক পুলিস মোতায়েন করা হয়। এদিন নির্বাচনে লড়াইয়ের জন্য মনোনয়ন পত্র তোলেন সুকুমার আচার্য। তিনি বলেন, আমরা গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের পক্ষ থেকে মনোনয়ন পত্র তুলতে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের বাধা দেওয়ার পাশাপাশি মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর আমরা হাই কোর্টে পিটিশন দিয়েছিলাম। কোর্টের নির্দেশে মনোনয়ন পত্র তুলতে পারলাম। কোনও অসহযোগিতা করা হয়নি।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এবারের নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি মনোনয়ন পত্র বিলি করার কথা ছিল। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি মনোনয়ন পত্র পেশ করতে পারবেন প্রার্থীরা। ২৭ ফেব্রুয়ারি মনোনয়ন পত্র স্ক্রুটিনি করার পাশাপাশি বৈধ মনোনয়ন পত্রের তালিকা প্রকাশ করা হবে। কিন্তু ২৪ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ গত সোমবার নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন পত্র তুলতে ভিড় জমিয়েছিলেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। অভিযোগ ওঠে, ব্যাঙ্কের আশেপাশে ঘেঁষতে পর্যন্ত দেওয়া হয়নি বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের। এমনকী সিপিএমের ক্যাম্প অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। তার পরের দিন অর্থাৎ গত মঙ্গলবার মেদিনীপুর শহরের পিপলস কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের মনোয়ন তোলা ঘিরে সিপিএম-তৃণমূলের মধ্যে খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায়। এই ঘটনায় দু’ পক্ষের দু’ জন জখম হয়েছেন। সিপিএমের অভিযোগ, মনোনয়ন পত্র তুলতেই দিচ্ছে না তৃণমূল। কেশপুর সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বহিরাগত দুষ্কৃতী এনে তাণ্ডব চালাচ্ছে ঘাসফুল শিবির। মনোনয়ন পত্র তুলতে গেলেই ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। পুলিসকে ব্যবহার করে চলছে মনোনয়ন তোলা ও জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া। এরপর বুধবার সিপিএম দলের চার প্রার্থী হাই কোর্টে পিটিশন জমা দেন। হাই কোর্টের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয় চার প্রার্থীকে মনোনয়ন পত্র তোলার ব্যবস্থা অবিলম্বে করবে পুলিস ও প্রশাসন। এদিন সিপিএমের প্রার্থীরা মনোনয়ন পত্র তুললেন। সিপিএমের বাকি প্রার্থীরা আইনি পরামর্শ নিচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। বিজেপির তরফে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ জানানো হয়েছে।
তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, ‘তৃণমূলের তরফে মনোনয়নে বাধা দেওয়া হয়নি। তবে, আদালতের বিষয় নিয়ে মন্তব্য করব না।’
তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, ‘তৃণমূলের তরফে মনোনয়নে বাধা দেওয়া হয়নি। তবে, আদালতের বিষয় নিয়ে মন্তব্য করব না।’



