সংবাদদাতা, কাঁথি: আগ্নেয়াস্ত্র সহ চড়াও হয়ে মারধর, খুনের চেষ্টা, হুমকি, বোমা নিয়ে হামলা সহ নানা অভিযোগে এবার ভগবানপুরের দাপুটে তৃণমূল নেতা রবিনচন্দ্র মণ্ডল গ্রেপ্তার হলেন। শনিবার রাতে কলকাতার আনন্দপুর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে ভগবানপুর থানার পুলিশ। রবিন ভগবানপুরের জেলা পরিষদ সদস্য এবং ভগবানপুর-১ ব্লক তৃণমূল সভাপতি পদে রয়েছেন। এবার বিধানসভা নির্বাচনে খেজুরি কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন। যদিও পরাজিত হন। ধৃত বাজকুলের তেথিবাড়ির বাসিন্দা রবিনকে রবিবার কাঁথি মহকুমা আদালতে তোলা হয়। বিচারক পাঁচদিন পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন। ভগবানপুর থানার এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে রবিনকে জেরা করা হচ্ছে। ঘটনায় বাকি অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, শনিবার ভগবানপুরের নারায়ণদাঁড়ি গ্রামের বাসিন্দা বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য গোষ্ঠবিহারী দাস থানায় এফআইআর দায়ের করেন। তিনি অভিযোগে জানান, বাজকুল মিলনী কলেজে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে। গত ১৬মার্চ তিনি এবং কয়েকজন মিলে অধ্যক্ষের কাছে এনিয়ে অভিযোগ জানান। সেখান থেকে ফিরে কলেজ গেটের সামনে পৌঁছালে প্রাক্তন ছাত্র তথা বর্তমান অলিখিত ছাত্রনেতা, গভর্নিং বডির সদস্য রবিনের নেতৃত্বে কয়েকজন মিলে তাঁদের অন্যায়ভাবে বাধা দেয়। অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ করার ‘অপরাধে’ ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোটা নিয়ে তাঁদের উপর হামলা চালায়। এমনকী প্রাণনাশের জন্য বোমাবাজিও করে। হামলকারীরা তাঁর সঙ্গী সৌমিত্র সাহু নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে সোনার গয়না ও হাতঘড়ি ছিনিয়ে নেয়। অভিযোগকারী গোষ্ঠবাবুর কাছ থেকে হাতঘড়ি ও ন’হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পিন্টু মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে হাতঘড়ি ও পাঁচ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। এখানেই শেষ নয়, গত ৮মে তাঁরা কলেজের গেটের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় অভিযোগ করার পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে হুমকি দেয়। গোষ্ঠবিহারীবাবুর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রবিনকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া শুরু করে।
গোষ্ঠবিহারীবাবু বলেন, কলেজে মৌরসিপাট্টা চালাত রবিন। তার দাপটে বাঘে-গোরুতে একঘাটে জল খেত। কেউ কিছু বলার সাহস পেত না। আমরা পুলিশকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছি। তৃণমূলের কাঁথি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি পীযূষকান্তি পণ্ডা বলেন, সর্বত্রই দলের নেতা-জনপ্রতিনিধিদের বিজেপির প্ররোচনায় এভাবে ফাঁসিয়ে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।