Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুজোয় সরকারি অনুদান বৃদ্ধিতে লক্ষ্মীলাভ মৃৎশিল্পী, পুরোহিত, মণ্ডপশিল্পী ও ঢাকিদের

দুর্গাপুজোয় সরকারি অনুদান বাড়ানোর ঘোষণায় উদ্যোক্তাদের মুখে চওড়া হাসি ফুটেছে। এবছর তাঁরা পুজোর বাজেটও বাড়িয়েছেন।

পুজোয় সরকারি অনুদান বৃদ্ধিতে লক্ষ্মীলাভ মৃৎশিল্পী, পুরোহিত, মণ্ডপশিল্পী ও ঢাকিদের
  • ২৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বহরমপুর: দুর্গাপুজোয় সরকারি অনুদান বাড়ানোর ঘোষণায় উদ্যোক্তাদের মুখে চওড়া হাসি ফুটেছে। এবছর তাঁরা পুজোর বাজেটও বাড়িয়েছেন। এদিকে, বাড়তি লক্ষ্মীলাভের সম্ভাবনায় মৃৎশিল্পী, ঢাকি, পুরোহিত, মণ্ডপশিল্পী মহলেও খুশি ছড়িয়েছে। দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িত শিল্পী, বাদ্যকররা বলেন, এবার বায়না করতে এসে উদ্যোক্তারা ‘কল্পতরু’ হয়ে পড়েছেন। আমাদের সঙ্গে কেউ দরাদরি করছেন না। গত বছরের থেকে এবারে আয় অনেকটাই বেশি হচ্ছে। পুরোহিত মহলের দাবি, দুর্গাপুজোয় বাড়তি আয়ের আশায় অনেকেই ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতেন। এবার আর রাজ্যের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। রাজ্য সরকারের কারণে এবার জেলায় বসেই বাড়তি আয়ের সুযোগ এসেছে।

Advertisement

গত বছর পুজোর উদ্যোক্তারা সরকারি অনুদান হিসেবে ৮৫ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। এবছর রাজ্য সরকার আর্থিক সাহায্য একলাফে ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী অনুদান বাড়ানোর ঘোষণা করায় উদ্যোক্তারা প্রতিমা, পৌরোহিত্য, মণ্ডপসজ্জা, বাজনা বাবদ বরাদ্দ বাজেট বাড়িয়েছেন। ফলে খুশি মৃৎশিল্পী, মণ্ডপশিল্পী, ঢাকি, পুরোহিত মহল।
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা থানা এলাকার মহুলার মৃৎশিল্পী বাঁকারায় দাস বলেন, খড়, সূতলি, রং, সাজসজ্জার দাম বাড়ায় প্রতিমা তৈরির খরচ অনেকটাই বেড়েছে। তবে বিগত কয়েক বছরে প্রতিমার দাম সেভাবে বাড়েনি। এবার পুজো উদ্যোক্তারা প্রতিমার দাম আমাদের চাহিদা মতোই দিচ্ছেন। বরাতও ভালো পেয়েছি। মণ্ডপশিল্পী তপন ঘোষ বলেন, অনেকে সরকারি অনুদান পেলেও মণ্ডপসজ্জায় সেভাবে খরচ করতেন না। এবার বেশ কয়েকটি পুজো কমিটি বড় মণ্ডপের বরাত দিয়েছে। প্রচুর কাজের অর্ডার পেয়েছি। বহু শ্রমিককে টানা একমাস কাজ দিতে পারব।
শুধু মৃৎশিল্পী, মণ্ডপ শিল্পীরাই নন, এই তালিকায় রয়েছেন ঢাকি থেকে পুরোহিতরাও। মির্জাপুর দাসপাড়ার বাসিন্দা, পেশায় ঢাকি অখিল দাস বলেন, গত বছর পুজোয় চারদিন ঢাক বাজিয়ে এক-একজন চার হাজার টাকা করে পেয়েছি। পুজো কমিটি এবার একলাফে দেড় হাজার টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। মুর্শিদাবাদ থেকে বহু ঢাকি, পুরোহিত বাড়তি লক্ষ্মীলাভের আশায় পুজোয় ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতেন। এবার তাঁদের ভিনরাজ্যে যাওয়ার প্রবণতা কমেছে। পছিপাড়ার বাসিন্দা, পেশায় পুরোহিত শুকদেব আচার্য বলেন, ভিনরাজ্যে বাংলা আর বাঙালির উপর নির্যাতনের খবর রোজ সংবাদ মাধ্যমে দেখছি। রাজ্য সরকার পুজোর অনুদান বাড়ানোয় জেলায় বসে চাহিদামতো পুজোর সাম্মানিক পাচ্ছি। বাইরে থেকে আমন্ত্রণ এসেছিল। একবাক্যে প্রত্যাখ্যান করেছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ